জাতীয় নির্বাচনে সাধারণত রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা ঢাকার আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কম আগ্রহ দেখান। নিরাপদ জয় নিশ্চিত করতে অধিকাংশ নেতা নিজের জন্মস্থান বা প্রভাবশালী এলাকায় মনোনয়ন নেন। অতীতে ঢাকার আসনে নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা হলেও প্রখ্যাত নেতাদের পরাজয়ের নজিরও রয়েছে।
তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। রাজধানীর চারটি আসনে একাধিক দলের প্রধান সরাসরি ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। এই কারণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের দৃষ্টি এখন বিশেষভাবে ঢাকা-১৭, ঢাকা-১৫, ঢাকা-১১ ও ঢাকা-১৩-এর দিকে।
আসন ও প্রার্থীরা
ঢাকা-১৭ (গুলশান, বনানী, ভাসানটেক): বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ঢাকা-১৫ (কাফরুল): জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
ঢাকা-১১ (রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা): জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর, আদাবর): খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
এই আসনগুলোতে জয় বা পরাজয় রাজনৈতিকভাবে ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’ হিসেবে দেখা হয়। ফলে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ অতীতে ঢাকার আসনে শীর্ষ নেতাদের হার-জয়ের নজির আছে।
প্রধানদের প্রচারণা
ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার পর থেকে নেতাকর্মীরা সক্রিয়। আগে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ চালাচ্ছিলেন বিএনপির ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তবে তারেকের প্রার্থীতা চূড়ান্ত হওয়ার পর তিনি ভোলা-১ আসনে মনোনয়ন নেন। এই আসনে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান।
ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান নিয়মিত এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। ২০১৮ সালে তিনি বিএনপি জোটের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে হেরে গিয়েছিলেন। এবার তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল ইসলাম মিল্টন।
ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলাম প্রার্থী হলেও শুরুতে প্রচারণা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। জামায়াতের প্রার্থী আতিকুর রহমান পূর্বে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন, তবে এনসিপি জামায়াত জোটে যোগ দেওয়ার পর তিনি সরে গিয়ে নাহিদ ইসলামের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ড. এম এ কাইয়ুম।
ঢাকা-১৩ আসনে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা তার সম্মানে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী ববি হাজ্জাজ নিজ দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন।
ঢাকার আসনে ইতিহাস
ঢাকার আসনে বড় দলগুলোর নেতাদের জয় ও পরাজয়ের দুটো ধরনের নজির আছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ঢাকা-৭ ও ঢাকা-১০-এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, উভয় আসনে পরাজিত হন।
২০০৮ সালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ঢাকা-১৭ আসনে জয়ী হন, এক লাখ ২৩ হাজার ৯৩৬ ভোটে।
২০১৮ সালে জামায়াতের ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫-এ পরাজিত হয়েছেন। এর বাইরে ঢাকার শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনী ইতিহাস তেমন উল্লেখযোগ্য নয়।
বিশ্লেষকরা কী বলছেন
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এবার সবচেয়ে বেশি সংখ্যক দলের প্রধান ঢাকার আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ঢাকার ভোটে নেতাদের পরাজয় ইমেজ সংকট তৈরি করতে পারে, তাই সাধারণত তারা ‘সেফ জোন’ বেছে নেন। তবে এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণ কীভাবে দাঁড়ায়, সেটিই মূল চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের ফলাফলের জন্য ভোটারদের আঞ্চলিক সমীকরণ ও গণজোয়ার গুরুত্বপূর্ণ। এবারও ভোটারদের আচরণ ও সমীকরণই চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করবে।




