জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের প্রতিটি শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র এবং মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ সরকারি খরচে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলে।
জামায়াতের আমির বলেন, যারা জনগণের সরকার চায় না, দেশকে গোলাম বানিয়ে রাখতে চায় তারা এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের পর মিথ্যাচার করছে।
শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে অনেক মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। আমার দেশের ২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি করে পাচার করেছে স্বৈরাচার সরকার। এই টাকার মালিক জনগণ। আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে আর কাউকে লুটপাট করতে দেব না। মুখে হাত ভরে দিয়ে সব বের করে নিয়ে আসবো। যারা জনগণের টাকা চুরি ও ডাকাতি করেছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ করে জামায়াত আমির বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা বেকার ভাতা চায়নি, তারা কাজের অধিকার চেয়েছিল। আমরা যুব সমাজকে কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ তাদের সঠিক শিক্ষা এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে পেশাগত দক্ষ করে তোলা হবে। এরপর তাদের হাতে যোগ্য সম্মানজনক কাজ তুলে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, মায়েদের মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে হবে। মায়ের অপমান এ জাতি সহ্য করবে না। ঘর থেকে শুরু করে কর্মস্থল-সব জায়গায় নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা উপজাতি বলে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না, নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে।
আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, অপনাদের প্রিয় নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীসহ জুলাই আন্দোলনের শহীদদের বিচার করার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেবেন। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন হবে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের নির্বাচন। তাই গণভোটে ‘হ্যাঁ মানে আজাদি’, ‘না মানে গোলামি’ এই কথা মাথায় রেখে দুর্নীতিমুক্ত, শোষণহীন ও ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসেন ফরিদের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, লেবার পার্টি চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান। পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী, পিরোজপুর-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী শামীম সাঈদী ও পিরোজপুর-৩ আসনে এনসিপির প্রার্থী ড. শামীম হামিদীসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ।
পরে পিরোজপুর-১ ও ২আসনের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী ও শামীম সাঈদীর হাতে দলীয় প্রতিক দাঁড়িপাল্লা, পিরোজপুর-৩ আসনে এনসিপির শামীম হামিদীর হাতে শাপলা কলি এবং বরগুনা -২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান।



