চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা: এনএসআই ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে আটক চক্রের মূল হোতা

বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার পরিচয়ে মানুষকে চাকরি দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা নিয়ে সর্বশান্ত করা এক প্রতারক চক্রের মূল হোতাকে আটক করেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ও র‌্যাব-৩।

আটককৃত ব্যক্তির নাম মো: ইবনে মিজান রনি (৫০)। তার পিতার নাম মো: বাচ্চু মিয়া। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৬ জানুয়ারি রাজধানীর মতিঝিল থানাধীন গোপীবাগ এলাকা থেকে যৌথ অভিযানে উক্ত আসামিকে আটক করা হয়।

এ সময় তার কাছ থেকে ৩টি মোবাইল ফোন, ৩টি সিম কার্ড ও ৮ পৃষ্ঠার একটি প্রতারণামূলক এসএমএসের স্ক্রিনশর্ট উদ্ধার করে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

অভিযোগ রয়েছে, গত ২২ নভেম্বর আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে বহুল ব্যবহৃত জনপ্রিয় অ্যাপসের মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রী সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বাক্ষরিত আনসার পদে চাকুরী দেওয়ার একটি সুপারিশ পত্র প্রেরণ করে।

বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানা যায়, উক্ত আবেদন পত্রটি প্রকৃতপক্ষে  প্রতারক রনি তার নিজের বহুল ব্যবহৃত জনপ্রিয় অ্যাপস হতে প্রতারণার উদ্দেশ্যে ২২ নভেম্বর আনসার সদর দফতরে প্রেরণ করে।

এদিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রনি তার প্রতারণার সব কৌশল স্বীকার করে জানায়, কিভাবে ক্ষমতার কৌশল প্রয়োগ করে চাকুরীতে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলীর তদবীর বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে।

প্রতারক রনি নিজেকে শেখ হেলাল পরিচয় দিয়ে ডিজি আনসারসহ বিভিন্ন জনকে প্রার্থীদের ডিটেইলস পাঠিয়ে চাকরীর জন্য তদবীর করেন। শেখ হেলাল ছাড়াও রনি নিজেকে এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, এডিশনাল ডিআইজি হাফিজ নামেও পরিচয় দেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইবনে মিজান রনি হাজীগঞ্জ পৌরসভা সংলগ্ন একটি ৫ তলা বাড়ি রয়েছে। তার রয়েছে একাধিক স্ত্রীও।

এ বিষয়ে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানায়, ইবনে মিজান রনি একজন পেশাদার প্রতারক। প্রতারণার জন্য এর আগে তার ৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার বিরুদ্ধে নতুন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email