রায়পুর-বিরামপুর সড়ক : বড় বড় গর্ত-দুর্ভোগে শতাধিক গ্রাম

তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুর :

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোলাখালী ব্রীজ থেকে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিরামপুর বাজার পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়ক গত ৪ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে যানচলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটির পুরো অংশজুড়ে খানাখন্দে ভরা। এতে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সড়কটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী আবেদন করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে সড়ক ব্যবহারকারী শতাধিক গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দেখার কেউ নাই।

জানা গেছে, দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী পশ্চিম আলোনিয়া গ্রামের-সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ও ব্যস্ততম বাজার সড়ক। ৫ কিলোমিটার সড়কটি গত ৫ বছর বেশি আগে নির্মাণ করে এলজিআরডি বিভাগ। সড়কটি দিয়ে উপজেলার শতাধিক গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের যাতায়াত করে থাকে। এছাড়া এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিনই বেশিরভাগ মানুষ রায়পুরেই আসেন। দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার না করায় সড়কটির পুরো অংশজুড়ে খানাখন্দে ভরা। কাপেটিং ও ইট-খোয়া উঠে গিয়ে বালুর মধ্যে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। নিয়মিত এ সড়ক দিয়ে শত শত সিএনজি, রিক্সা-অটো রিক্সার চলাচল করে। পাশাপাশি নিত্যদিনের খাবার, চিকিৎসা, ব্যবসা করতে বাস-মিনিবাসসহ নানা ধরনের যানবাহন চলাচলের মাধ্যমে সড়কটি। রাস্তার এ বেহাল দশার কারনে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। যাতায়াতের সময় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীরা সড়কে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় শিক্ষক ফিরোজ আলম জানান, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। রাস্তার কারপেটিং উঠে গিয়ে বালুর সরু ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যাওয়ার কারনে দুইটি সিএনজি রিকসা সাইড দিতে পারে না। মাঝে মাঝে সাইড দিতে গিয়ে পাশের খাদে পরে দুর্ঘটনার শিকার হয়।

লেগুনা ড্রাইভার আমিন হোসেন জানান, আমি গাড়ি করে প্রায় দিন এ সড়ক দিয়ে ৫টি বাজারের নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল দেই। এমনিতেই রাস্তাটি সরু। তার পর কারপেটিং উঠে গিয়ে আরো সরু ও বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। পাশপাশি দুইটি রিকসা সাইড দিতে পারে না। এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ন সড়কটির বেহাল দশার কারনে জন সাধারনের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

আলোনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বাছেদ বলেন, ইউনিয়রনের বেশিরভাগ মানুষ ব্যস্ততম সড়কটি দিয়ে রায়পুরে সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকে।। বেহাল সড়কটি মেরামতের জন্য গত ৪ বছর ধরে স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ও-জেলা-উপজেলার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েও কোন পদক্ষেপ মেলেনি । সড়কটি এলাকার প্রধান সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। সকল মানুষের দাবি গুরুত্বপুর্ণ সড়টি ১০ ফিট থেকে ১৬ ফিট চওড়াসহ সংস্কার করতে হবে।

চাঁদপুরের এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউনুস হোসেন বিশ্বাস মোবাইল ফোনে বলেন, ফরিদগঞ্জ-রায়পুর উপজেলার সীমান্তবর্তী পশ্চিম আলোনিয়া গ্রামের গুরুত্বপুর্ণ এ সড়কটি সম্পর্কে-জানা নাই। কাগজপত্র দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

Print Friendly, PDF & Email