লক্ষ্মীপুরে দুই স্বাস্থ্যকর্মীর বাড়িতে হাসপাতাল!

তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুর:

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনার স্বাস্থ্যকর্মী বিলকিস বেগমের বিরুদ্ধে বাড়িকে হাসপাতাল বানিয়ে প্রসূতি মায়েদের ডেলিভারী ও সর্বরোগের চিকিৎসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। আইনকে তোয়াক্কা না করে জন্ম নিয়ন্ত্রণ ইনজেকশান ও অন্যান্য পদ্ধতিও দিচ্ছেন তিনি। চিকিৎসা বিজ্ঞানে কোন ডিগ্রী না থাকলেও গাইনি ও প্রসূতি রোগী দেখছেন ও চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন সবসময়। আরেকদিকে রায়পুর শহরের উপজেলা পরিষদের পিছনে টিসি সড়কে মায়া বেগম নামের আরেক স্বাস্থ্যকর্মীও একইভাবে কাজ করে চলেছেন। সম্প্রতি তার বাসায় এক প্রসুতি নারীর বাচ্চা প্রসব করতে দুটি বাচ্চা মেরে ফেলার ঘটনায় তোলপাড় হয়। পরে ক্ষমা চেয়ে শেষবারের মত গনপিটুনি থেকে রক্ষা পায়। সে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশও মানছে সে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কমলনগর উপজেলার চরলরেঞ্চ ইউনিয়নের লরেঞ্চ দক্ষিণ বাজারের আউয়াল মেম্বারের বাড়িতে নিজ বাসায় ৩টি রুমকে হাসপাতাল বানিয়ে নিয়মিত রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন একই ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবার কল্যাণ সহকারী বিলকিস বেগম। এতে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ওয়ার্ড পর্যায়ে গর্ভবতী মায়েদের তালিকা করা, নিয়মিত চেকআপ নিশ্চিত করা ও হাসপাতালে নিরাপদ ডেলিভারী করতে সহায়তা করা ও টিকা নিশ্চিত করাই যার কাজ অথচ কোন ডিগ্রী না থাকলেও তিনি প্রতিদিন চেম্বার করছেন। নিজের হাসপাতালে তিনি নিজেই করছেন ডেলিভারী। এছাড়াও স্ত্রী রোগ, কিশোরী, প্রসূতি ও মহিলাদের বিভিন্ন গাইনি রোগের চিকিৎসা করছেন। জন্ম নিয়ন্ত্রণ ইনজেকশান ও বিভিন্ন প্রদ্ধতি দিয়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে বিলকিসের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, সরকারিভাবে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে প্রসূতি মায়েদের ডেভিভারীসহ সকল রোগের চিকিৎসার জন্য আধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে। পরিবার কল্যাণ সহকারী হওয়ার সুবাধে বিলকিস গ্রামের প্রসূতিদের তালিকা প্রণয়ন করে থাকেন। ঠিক তখনই কেউ ডেলিভারির জন্য আসলে সরকারি হাসপাতালে না পাঠিয়ে নিজের চেম্বারে ডেলিভারি করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়াও হাসপাতালের পাশেই নিজের নামেই দিয়েছেন ফার্মেসী। অধিকমূল্যে ওষুধ বিক্রি করেও করছেন প্রতারণা। ডিগ্রী না থাকার পরেও অবৈধভাবে বাড়িকে হাসপাতাল বানিয়ে ডেলিভারি ও রোগী দেখছেন মর্মে জানতে চাইলে বিলকিস বেগম রাগান্তিত হয়ে বলেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ডিজি তাকে ট্রেনিং দিয়েছেন। ডিজির অনুমতিতেই তিনি এই হাসপাতাল বানিয়েছেন এবং সেবা দিচ্ছেন। হাসপাতালের অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন তার ড্রাগ লাইসেন্সও আছে।

সুত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর-কমলনগর মহাসড়কের পাশেই ডা. বিলকিস বেগম লেখা বিশাল সাইনবোর্ড ইতোমধ্যে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের নির্দেশে সরাতে বাধ্য হন তিনি। এছাড়াও বাসায় অবৈধ হাসপাতাল কার্যক্রম বন্ধ করতে তাকে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে শুধু নামের আগে ডাক্তার লেখা মুছে সকল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। বাড়িতে রুম ব্যবহার করে হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতে পারেন কিনা জানতে চাইলে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা আবু তাহের জানান, সরজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ডা. আশফাকুর রহমান মামুন সাংবাদিকদের বলেন, কোনভাবেই স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়িতে প্রসূতি সেবা বা কোন চেম্বারে সেবা দিতে পারবেন না। তার কাজ হলো মাঠে প্রসূতিদের সরকারি সেবা নিশ্চিত করা। কারো ডেলিভারির প্রয়োজন হলে তাকে নিয়ে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে প্রেরণ করা। তাকে এর আগেও সতর্ক করা হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email