লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় তীব্র পানি সংকট : দুর্ভোগে পৌরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় দেখা দিয়েছে পানির তীব্র সংকট। ঠিকমত পানি না পাওয়ায় বাজার থেকে বোতলজাত পানি কিনে কোন রকম রান্না-বান্নার কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে গ্রাহকদের। পানি না পাওয়ায় অনেকেই বাসা বাড়ি ছেড়ে গ্রামের দিকে ছুটে যাচ্ছেন। ফলে পানি কারনে চরম দুভোর্গ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে। পানির এ সংকটের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকেই দুষছেন জনপ্রতিনিধিরা। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এ সংকট উত্তরনের উপায় নেই বলে জানিয়েছেন পৌরমেয়র । বিদ্যুৎ কোন লোডসেটিং দেওয়া হচ্ছেনা বলে জানান বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ।

চরম দুভোর্গ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে

লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় তিনটি বিশুদ্ধ পানি শৌধনাগার রয়েছে। যার ধারন ক্ষমতা রয়েছে ১২ লাখ লিটার। এখান থেকে প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে ৫০ লাখ লিটার বিশুদ্ধ পানি। কিন্তু গ্রাহক চাহিদা রয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ লিটার পানির। এ পৌরসভায় প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। গত কয়েকমাস ধরে পৌরসভার শিল্পকলনি,সোনালী কলনি, বাঞ্চানগর, সমসেরাবাদ, লামচরী, ও উত্তর মজুপুরসহ বিভিন্ন স্থানে পানির লাইনে পানি আসছেনা।

পৌরসভায় তিনটি বিশুদ্ধ পানি শৌধনাগার রয়েছে

আবার কিছু কিছু এলাকায় সামান্য পানির দেখা মিললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এদিকে গভীর নলকুপ বা বিকল্প উপায়ে কাজ চালিয়ে নিলেও পানির চাহিদা বেশি থাকায় তা কাটিয়ে উঠছেনা কোনভাবেই। এতে করে দিনের পর দিন পানি না পাওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে পৌরবাসীর মধ্যে।

লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় দেখা দিয়েছে পানির তীব্র সংকট

পৌর বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান,, প্রতিমাসে পানির বিল পরিশোধ করা হয়। কিন্তু গত একমাস ধরে পানি লাইনে পানি নাই। তীব্র পানি সংকটের কারনে ঠিকমত গোসল,খাওয়া ধাওয়া, প্রয়োজনীয় কাজ করা যাচ্ছেনা। রাত জেগেও পানির জন্য অপেক্ষা করেও লাভ নেই। বিশেষ করে পানি না থাকায় বেকাদায় থাকতে হয়। বারবার জানানো হলে ও পৌর কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এ সংকট উত্তরনের উপায় নেই বলে জানিয়েছেন পৌরমেয়র

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র আবু তাহের পানির এ সংকটের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকেই দুষছেন। তিনি জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এ সংকট উত্তরনের উপায় নেই। তবে গ্রাহক চাহিদা রয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে ৫০ লাখ লিটার পানি। এই লো-ভোল্টেজ দিয়ে গ্রাহক চাহিদা পূরন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পৌর কর্মকর্তা।

লক্ষ্মীপুর বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো’র) নির্বাহী প্রকৌশলী এএফএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, লক্ষ্মীপুরে বিদ্যুতের চাহিদা ১১ মেগাওয়াট। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ৯ মেগাওয়াট। এ ছাড়া রয়েছে লো-ভোল্টেজ। তাই বিদ্যুত গ্রাহকদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email