কিভাবে বুঝবেন স্তন ক্যান্সার হয়েছে, প্রতিকারের উপায়- ডাঃ মহসীন আহমদ

ঢাকা : অক্টোবর মাস স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধের মাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতি বছরেরমত এবারও বিশ্বব্যাপি পালিত হবে দিবসটি।গোলাপী ফিতাকে এ দিনটির প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
“স্থুলতা  স্তন ক্যান্সারের ঝুকি বাড়ায় ”এ প্রতিপাদ্য বিষয় সামনে নিয়ে ৮ম বারের মত  আজ সারাদেশে দিবসটি উদযাপিত হবে। আসুন আমরা স্তন ক্যান্সার এর ব্যাপারে সচেতনতন হই। জেন ননি স্তন ক্যান্সার কি? কারন, লক্ষ্মণ ও প্রত্রিকার সম্পর্কে।
পরামর্শ দিয়েছেন, জাতীয় হৃদরোগ ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক এবং হেলদি হার্ট হেপী লাইফ অর্গানাইজেশনর (হেলো) প্রধান পৃষ্ঠপোষক ডা. মহসীন আহমদ।
স্তন ক্যান্সার কি?
স্তনের টিস্যুতে ক্যান্সার কোষের উপস্থিতি কে স্তন ক্যান্সার  বলা হয়। সারা পৃথিবীতে মহিলাদের যত ধরনের ক্যান্সার হয় তার মধ্যে স্তন ক্যান্সার এক তৃতীয়াংশ এবং এ থেকে মৃত্যুর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। কারন, স্তন ক্যান্সারের কারন সম্পর্কে পুরোপুরি জানা না গেলেও কিছু  কিছু বিষয়ের সাথে স্তন ক্যান্সারের সম্পর্ক পাওয়া যায় যেমন- দেরিতে সন্তান  হওয়া বা নিঃসন্তান; দীর্ঘদিন জন্মনিয়ন্ত্রন পিল খাওয়া; দেরিতে মাসিক হওয়া বা খুব আগে মাসিক বন্ধ  হওয়া; রক্ত সম্পর্কীয় আত্মাীয় যেমন মা, খালা ইত্যাদি এ রোগ থাকা; রেডিয়েশন জনিত প্রভাব; হরমোন জনিত কারন; বাচ্চাকে বুকের দুধ না খাওয়ানো ইত্যাদি অন্যতম।
লক্ষন :
স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষন গুলো জানা প্রতি নারীর জন্য খুব জরুরী। এতে করে রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্তের হার বাড়ে। যার ফলে পুরোপুরি সেরে ওঠা সম্ভব হয়। যেমন- স্তনে চাকা
বগলে চাকা অনুভব; স্তনের চামড়ার  কমলার খোসার মত অস্বাভাবিক পরিবর্তন; স্তনবৃন্ত থেকে রক্তের মত রস নির্গত হওয়া
স্তনে ব্যাথা হওয়া।
রোগ নির্নয়: 
একজন চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা ও কিছু টেস্ট এর মাধ্যমে এ রোগ নির্নয় করেন এর মধ্যে, ম্যামেগ্রাম, আলট্রাসনোগ্রাম, এফ এন এ সি, বায়োপসি ইত্যাদি।
চিকিৎসা: 
প্রাথমিক স্তরে ধরা পড়লে এ রোগ থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠা যায়। কিন্ত দেরিত ধরা পড়লে  এ চিকিৎসা খুব জটিল ব্যয়বহুল ও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিরাময় অযোগ্য। আমাদের দেশে এরোগের চিকিৎসার ক্ষত্রে অপারেশন বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরো স্তন বা স্তন সহ বগলের অংশ কেটে ফেলা হয়। এছাড়া, কেমোথেরাপি,  রেডিয়েশন থেরাপি, ইমুনোথেরাপি পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।
প্রতিরোধ:
বলা হয়ে থাকে, সচেতনতাই প্রধান প্রতিরোধ বা প্রতিকার। স্তন ক্যান্সার যেমন নিভিয়ে দেয় অনেকগুলো জীবনপ্রদীপ তেমনি কেড়ে নেয় অনেক পরিবারের হাসি আনন্দের সপ্ন।
এ রোগ থেকে বাচতে হলে নিয়মিত নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা করুন এবং  অস্বাভাবিকতা মনে হলে নিকটস্থ  চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করুন। মায়েরা তাদের বাচ্চাকে নিয়ম মত বুকের দুধ পান করান। পশ্চিমা জীবন অভ্যাস যেমন ধুমপান, মদ্যপানের অব্যাশ কারোর থাকলে তা বর্জন করুন। দেরিতে সন্তানধারন বা বন্ধাত্য থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন। দীর্ঘদিন একটানা জন্মনিয়ন্ত্রন বড়ি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এসব বিষয়ে সমাজে প্রচার প্রচারণা ও প্রতিটি পরিবারে স্তন ক্যান্সারের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
-ঃ লেখক ঃ –

ডাঃ মহসীন আহমদ।

সহযোগী অধ্যাপক
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ
জাতীয় হৃদরোগ ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা।
প্রধান পৃষ্ঠপোষক, হেলদি হার্ট হেপী লাইফ অর্গানাইজেশন।
Print Friendly, PDF & Email