লক্ষ্মীপুের মাঝপথে আটকে আছে গণশৌচাগার কাজ

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি :

মাঝপথে আটকে আছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বোর্ডার বাজারে গণশৌচারগার নির্মাণকাজ। চরপাতা ইউপি পরিষদের উদ্যোগে দেড় বছর আগে কর্তৃপক্ষ গণশৌচাগারের নির্মাণকাজ শুরু করে। কিন্তু মাঝপথে কাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদার উধাও হয়ে যায়। এর পর থেকে অর্ধনির্মিত অবস্থায় পড়ে আছে গণশৌচাগারটি। এদিকে গণশৌচাগার না থাকায় বাজারে আসা বিভিন্ন শ্রেণীর লেকজনসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পড়ছেন বিপাকে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বোর্ডার বাজারের মসজিদ ও মার্কেটের মাঝামাঝি স্থানে শৌচাগারের অবস্থান। দীর্ঘদিন নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। সন্ধ্যার পর ওই ঘরে মাদকসেবী ও বখাটে যুবকদের আড্ডা চলে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাজার ব্যবসায়ীরা জানান, এখানে অন্তত দুই শতাধিক দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শৌচাগার না থাকায় অনেকে খালপাড়ে বা পাশের সুপারি বাগানের ভেতর গিয়ে প্রাকৃতিক কাজ সারছে। এ কারণে বাজারের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে পরিষদের সকল সদস্য ও বাজার কমিটির সিদ্ধান্তমতে প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক মানের গণশৗচাগারটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গনশৌচাগারটি নির্মাণের দায়িত্ব পান লক্ষ্মীপুর শহরের ঠিকাদার মোঃ রুবেল। কিন্তু তিনি কয়েক মাসের মাথায় অর্ধেক কাজ করে উধাও হয়ে যান।

বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, শৌচাগার না থাকায় অনেকে বাজার করতে, নামাজ পড়তে ও ব্যবসায়ীরা সংক্ষিপ্ত করে যার যার স্থানে ফিরে আসতে বাধ্য হন। বাজার ব্যবসায়ী, পথচারি, ক্রেতা ও মসজিদের মুসুল্লিদের জন্য জনসাস্থ্য প্রকৌশলী কার্যালয়ের উদ্যোগে গণশৌচাগার নির্মাণ জরুরি। কিন্তু এ ব্যাপারে কারও উদ্যোগ নেই।

চরপাতা ইউপি সদস্য ও বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক আমিন পাটোয়ারী বলেন, গত দেড় বছর ধরে গণশৌচাগারটি অর্ধনির্মিত অবস্থায় পড়ে থাকায় বাজারে আসা ক্রেতা, ব্যবসায়ী ও মসজিদের মুসুল্লি-সহ স্থানীয় হাজারো মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে গনস্বাস্থ্য প্রকৌশরী গিয়াস উদ্দিন বলেন, ঠিকাদারের গাফিলাতির কারণে গণশৌচাগারটি অর্ধেক অবস্থায় পড়ে রয়েছে। গত জুন মাসে লক্ষ্মীপুরের ঠিকাদার কাজটি পেয়েছিল। কিন্তু সরকারি অর্থ বরাদ্ধ না থাকায় তার আর হয়নি। আগামি এক মাসরর মধ্যে এটির বাকি কাজ শেষ করার প্রস্তুতি চলছে।

Print Friendly, PDF & Email