লক্ষ্মীপুরে পরিত্যক্ত ভবনে পুলিশের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দুটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে ৩০ বছর আগে। তবে সেই পরিত্যক্ত ভবনেই-পুলিশের ফাঁড়ি। দুর্ঘটনার আশঙ্কার মধ্যেই সেখানে পুলিশ সদস্যরা বাস করছেন। একই সঙ্গে রোদ-বৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট হওয়ার উপক্রম। এ চিত্র লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ও দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়নের হাজিমারা এবং উত্তর চরআবাবিল ও দক্ষিন চরআবাবিল-ইউনিয়নের হায়দরগন্জ বাজারের পাশে পুলিশ ফাঁড়ির।

ফাঁড়ি-পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সালে মেঘনা উপকূলীয় অঞ্চলবাসীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে-পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভিতরে দুটি ভবনে পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয়। কয়েক বছর থাকার পর তা পরিত্যাক্ত ঘোষনা হলে দুটি ভবনেই কার্যযক্রম শুরু হয়। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ১৯৮০ সালে পাউবোর ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। পরে ওই আবাসিক ভবন থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়া হয়। আরেকটি হলো চরআবাবিল ইউপির বানিজ্যিক শহড় হায়দরগন্জে। তবে সেই পরিত্যক্ত দুই জায়গায় তিনটি ভবনে এখনো চলছে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটির বাইরে ও ভেতরের দেয়ালের অনেক স্থানে বড় ফাটল। দরজা-জানালা ভেঙে গেছে। ছাদের পলেস্তারা খসে লোহার রড বেরিয়ে গেছে। কক্ষের ভেতর বাঁশের খুঁটি দিয়ে ছাদ ঠেকা দিয়ে রাখা হয়েছে। ভবনগুলোর কোনো সীমানাপ্রাচীরও নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই পুলিশ সদস্য বলেন, ‘বৃষ্টি এলে অফিসের কাগজপত্র ও আমাদের বিছানাপত্র পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হয়। ঝড় হলে তো বিপদ বেশি। ভবন ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় অনেকেই বাইরে বাঁ পাশের দোকান ঘরে আশ্রয় নেন। ঘরের ভেতর থাকলে সব সময় একটা আতঙ্ক কাজ করে।’

হাজিমারা ফাঁড়ির পরিদর্শক আবু ইউসুফ ও হায়দরগন্জ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোঃ জাহাঙ্গির বলেন, ভবনগুলোর এমন বেহাল দশা, সবাই এর ভেতরে ঢুকতেই ভয় পান। পুলিশ সদস্যরা এখানে থাকতে চান না, বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। ৫ বছর আগে এখানে ৭ জন ছিলেন। বর্তমানে হাজিমারা ব্যারাকে কর্মকর্তাসহ ১৪ জন রয়েছেন। হায়দরগন্জে ব্যারাকে কর্মমকর্তাসহ ১২ জন রয়েছেন।

উত্তর চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হোসেন মাষ্টার, দক্ষিন চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ মিন্টু ফরায়েজী ও দক্ষিন চরআবাবিল ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ উল্লাহ-বলেন, ‘পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা যে ভবনগুলোতে থাকেন, সেটির অবস্থা খুবই খারাপ। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। চার ইউনিয়নবাসীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পরিষদ থেকে ফাঁড়ির জন্য অনুদান দেয়া হয়েছিলো। আরো দেয়া হবে।

লক্ষ্মীপুর সহকারি পুলিশ সুপার (রায়পুর-রামগন্জ সার্কেল) ইস্পিনা রানী প্রামানিক বলেন, মেঘনা নদীর তীরবর্তী পাউবোর পরিত্যাক্ত রেষ্টহাইজে-পুলিশ ফাঁড়িটি। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পরিদর্শনে গিয়ে ঝুকিপূর্ণ ভবনে সদস্যদের কষ্ট দেখে নীজেই কষ্ট পেয়েছি। ঝুঁকির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। নতুন ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাবো।

Print Friendly, PDF & Email