শুভ জম্মদিন শেখ রেহানা

আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানার ৬৬তম জন্মদিন। ১৯৫৫ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে শেখ মুজিবুর রহমান ও মা ফজিলাতুননেছা মুজিবসহ অন্য সদস্যদের ঘাতকরা নির্মমভাবে হত্যা করে। ওই সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে জার্মানিতে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান দুই বোন। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ তিনি শুধু বঙ্গবন্ধুর কন্যাই নন, তিন সন্তান ছেলে রাদওয়ান সিদ্দিক ববি, মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ও রূপন্তির গর্বিত জননী। টিউলিপ যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। হ্যাম্পস্টিড অ্যান্ড কিলবার্ন থেকে নির্বাচিত লেবার পার্টির এমপি তিনি। রাজনীতি ও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও নির্মোহ শেখ রেহানা সবসময়ই অন্তরালেই থেকেছেন বড় বোন শেখ হাসিনার প্রাণশক্তি হিসেবে।

সব সময়েই নেপথ্যে তিনি। রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত না হয়েও দেশের উন্নয়ন আর সমৃদ্ধির প্রশ্নে ছায়ার মতো আগলে রাখেন বড় বোনকে। জাতির পিতার হত্যার প্রতিবাদে আওয়াজ তুলেছিলেন বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যখন নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তখন বিদেশে থাকায় বেঁচে যান তার দুই কন্যা। তাদেরই একজন শেখ রেহানা।পিতাসহ পুরো পরিবারের অকাল প্রয়াণে দুই বোন দিনের পর দিন থেকেছেন ঠিকানাবিহীন, বিদেশের পথে-প্রান্তরে কিংবা পালিয়ে থাকা অন্দরে।১৯৫৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জন্ম নেন শেখ রেহানা। ৭৫ এর পর নির্মম বাস্তবতায় সাজানো বাগান থেকে তাকে নামতে হয় বৈরি পৃথিবীর অনিশ্চিত পথে। সে সময় মিথ্যার রাজনীতি দেশে-বিদেশে। তখন ১৯৭৯ সালের ১০ মে লন্ডনে সর্ব ইউরোপীয় বাকশালের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনিই প্রথম পিতা ও জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচারের দাবি তোলেন।রাজনীতি সচেতন শেখ রেহানা সরাসরি আসেননি পিতা কিংবা বড় বোনের মতো জনতার মঞ্চে। কিন্তু ছায়ার মতো আগলে রেখেছেন প্রতিটি ধাপে, প্রজ্ঞা ও সাহসিকতা নিয়ে।নির্বাসিত জীবনে ১৯৭৭ সালে তিনি বিয়ে করেন অধ্যাপক ড. শফিক আহমেদ সিদ্দিককে। সব হারিয়েও মহিয়সী এই নারী মমতার বাঁধনে পরিবার সামলে কাজ করেন দেশের জন্য।জাতির পিতার কনিষ্ঠ কন্যা মানুষের সামনে সরাসরি না এলেও শেখ রেহানা এখনো প্রতিনিয়ত পরোক্ষ যুদ্ধে লিপ্ত, পিতার সোনার বাংলা গড়তে। সব হারিয়েও যিনি নিবেদিত প্রাণ হয়ে আছেন, অগণিত মুক্তিকামী মানুষের জন্য।

Print Friendly, PDF & Email