মেসির পরিবারের সবাই কাঁদতে শুরু করে

ঢাকা : যে ক্লাবে খেলে মহাতারকা হয়েছেন। যে ক্লাবের পরশে ফুটবল জগতে পেয়েছেন ‘অমরত্ব’। লিওনেল মেসি সেই ক্লাব ছাড়তে চেয়েছিলেন! এ কথা যখন পরিবারকে জানালেন, তখন কী হয়েছিল?

স্পেনের নাগরিকত্ব নিয়ে বার্সেলোনায় সংসার পাতানো মেসি শুক্রবার রাতে গোলডটকমকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বড় ছেলে থিয়াগো শহর ছাড়ার কথা শুনে সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়ে, ‘মাতেও এখনো ছোট। অন্য জায়গায় যাওয়ার অর্থ ও বোঝে না। থিয়াগো বড়। ও টিভিতে খবর শুনে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল।’

‘কাঁদতে কাঁদতে আমার কাছে এসে বলছিল, বাবা যেও না।’

আরও একটা মৌসুম বার্সায় থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়ে মেসি এদিন বলেন, ‘চলে যেতে যাওয়ায় কোনো ভুল ছিল না। আমি এটি চেয়েছিলাম, ক্লাব চেয়েছিল এবং এটা প্রত্যেকের জন্য ভালো ছিল।’

২০ বছর বার্সায় কাটানো মেসি সম্প্রতি জানান, আর থাকতে চান না। কিন্তু বার্সা তাকে আটকে ফেলে রিলিজ ক্লজের শর্তে। ক্লাবটি দাবি করে, এই মুহূর্তে মেসিকে অন্য জায়গায় যেতে হলে ৭০০ মিলিয়ন ইউরো দিতে হবে! মেসি আবার দাবি করেন, এই চুক্তি এখন কার্যকর নেই; ফ্রি ট্রান্সফারেই যাওয়া যাবে। কিন্তু তার সেই দাবি মানেনি বার্সা। পরে বাধ্য হয়ে এদিন জানালেন, আরও ১০ মাস থাকছেন।

৬ বার ব্যালন ডি’অর জেতা মেসি ইচ্ছা করলে আদালতে যেতে পারতেন। কিন্তু প্রিয় ক্লাবের সঙ্গে সেই ঝামেলা করতে চাননি।

‘শুনানির একটা পথ ছিল। কিন্তু কখনো আমি বার্সার বিরুদ্ধে আদালতে যাবো না। এটা এমন একটা ক্লাব, যেখানে আমার ভালোবাসা, আসার পরে যা আমাকে সব দিয়েছে। আমিও সব দিয়েছি।’

স্ত্রী-সন্তানকে মেসি যখন নিজের ইচ্ছার কথা বলেন, তখন এক ‘নিষ্ঠুর নাটকের’ অবতারণা হয়, ‘যখন স্ত্রী-সন্তানকে নিজের ইচ্ছার কথা বলি, এটা ছিল নিষ্ঠুর একটা নাটক। পুরো পরিবার কাঁদতে শুরু করে। আমার সন্তানেরা না বার্সেলোনা শহর ছাড়তে চেয়েছে, না স্কুল পরিবর্তন করতে চেয়েছে।’

‘কিন্তু আমি অনেক দূরে তাকিয়ে দেখেছি, সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। শিরোপা জিততে চাই, নামতে চাই চ্যাম্পিয়নস লিগের লড়াইয়ে।’

‘আমি ভেবেছিলাম ক্লাব ছাড়তে আমার কোনো বাধা নেই। প্রেসিডেন্ট সব সময় বলেছেন, মৌসুম শেষে থাকা না থাকার বিষয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারবো।’

‘এখন তারা বলছে আমি কেন ১০ জুনের আগে বললাম না। ওই সময়ে তো আমরা লা লিগা খেলছিলাম। করোনাও ছিল।’

বার্সা প্রেসিডেন্ট বার্তোমেউয়ের সঙ্গে ঝামেলার কারণেই মেসি ক্লাব ছাড়তে চেয়েছেন। এদিনের সাক্ষাৎকারে সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট।

‘প্রেসিডেন্ট বলেছেন আমার যাওয়ার একমাত্র উপায় ৭০০ মিলিয়ন ইউরো পরিশোধ। এটা অসম্ভব। ঠিক এই কারণেই আমি থেকে যাচ্ছি।’

Print Friendly, PDF & Email