লক্ষ্মীপুর হাসপাতালে হঠাৎ রোগিদের উপচে পড়া ভিড়

তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুর:

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরবংশী ইউপির চরলক্ষি গ্রামের বাসিন্দা রেহানার ১১ মাসের শিশুকন্যা মারজিয়া (৭)। সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্নক জখম হয়ে উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি। সরেজমিনে গিয়ে এমন অনেক শিশু-কিশোর ও বয়োবিদ্ধকে দেখা গেল ওই হাসপাতালে ভর্তি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনা, মারামারি, ডেলিভারি নারী ও আত্নহত্যা চেষ্টাকারি রোগীর সংখ্যা উপচে পরা।

হাসপাতালে দায়িত্বরত একজন চিকিৎসক জানান, ওই হাসপাতালের ডাক্তার, নার্সসহ অন্তত ১৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত এ উপজেলায় ৪ জন রোগী করোনায় অক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে জানা গেছে। আক্রান্ত হয়ে যারা দ্রুত আসছেন তারা ভালোর দিকে যাচ্ছেন। এমন তথ্যই জানাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

কয়েকজন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মারামরি, আত্নহত্যা চেষ্টাকারি ও ডেলিভারি আক্রান্তের সংখ্যাই বেশী। রোগীরা হাসপাতালের বেড না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

গৃহিনী পিরোজা বেগম জানালেন, রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে ডাক্তাররা ভর্তিই করাইতে চায় না। উনারা বলে জায়গা নেই। কিন্তু অনেক কান্নাকাটি করে আমি আমার মেয়েটাকে ভর্তি করাইছি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডটি করোনা আক্রান্ত রোগিদের জন্য নির্ধারন করা হয়েছে। ফিরোজার শিশুটির ঠিক পাশে ভর্তি হয়েছে স্ত্রীর দ্বারা হামলার শিকার হাফেজ মাওঃ কামাল হোসেন। কামাল জানালেন, হাসপাতালে এত রোগী, যে ভর্তিই করাইতে চায় না।

শুক্রবার বিকালে (২৮ আগষ্ট) দায়িত্বরত হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার বাহারুল আলম বলেন, এখানে চিকিৎসা হচ্ছে, তবে ডাক্তার, নার্স টেকনিশিয়ারসহ সব দিক থেকেই লোকবলের অপ্রতুলতা রয়েছে। তারপরও স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় কিছু কিছু চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। করোনায় আক্রান্তে সুস্থ হওয়া যারা ছিল ডাক্তার তারাও এখন এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এখনও আমাদের ডাক্তারের সংকট রয়েছে। নার্সরাও অনেকে অসুস্থ হয়েছেন। এই হাসপাতালের অনেক স্টাফও আক্রান্ত হয়েছেন। ডাক্তারদের মধ্যেও ৫ থেকে ৬ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ফলে লোকবলও কমে যাচ্ছে। এমনিতেই ক্রাইসিস তার উপরে স্টাফরা নিজেরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

রোগীদের সংখ্যা এখনও উপচে পড়া জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের মেডিসিন বিভাগে রোগীর নির্দিষ্ট বেড হচ্ছে ৫০। তার মধ্যে গত ৪ দিনে ২’শ এর অধিক মারামারি, আত্নহত্যা চেষ্টাকারি ও সড়ক দুর্ঘটনা রোগী থাকছে। বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার দুপুরে ৩০জন রোগী ভর্তি হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর দায়ীত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার সিরাজুল মুনিরা জানান, ডেলিভারি মহিলা, পেটে ব্যাথা ও মারামারি রোগীর সংখ্যা খুব একটা কমেনি, আগে যে হারে আসছিলো এখন সেই হারেই আসছে। বর্ষাকালের সময়টুকু এটা কমার সম্ভাবনা কম। বৃষ্টি হওয়া মানেই বিভিন্ন জায়গায় নতুন করে ভর্তি হচ্ছে।

রায়পুর সরকারি হাসপাতালে কর্তব্যরত একজন কর্মকর্তা জানালেন, বৃহস্পতিবার সকালে থেকে শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৪০ জন। যাদের মধ্যে অধিকাংশই ডেলিভারি ও মারামারির রোগি। হাসতালের অপর এক কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালে সিটের এতোটাই সংকট যে কর্তৃপক্ষ জায়গা দিতে পারছেন না।

কয়েকজন শিশু মায়ের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে জানা গেল, কিভাবে পেটে ব্যাথা তারা বলতে পারেন না। অধিকাংশ শিশু ও নারী মেঝেতে অবস্থান করছেন। তাদের বেশিভাগকেই মশারি দেওয়া নেই। কেন মশারি দেওয়া হয়নি জানতে চাইলে কয়েকজন রোগীর সঙ্গে আসা স্বজন জানালেন, বেড না পেলে মশারি দিচ্ছেন না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে অনেকেই নিজে থেকে মশারি কিনে এনেছেন বলেও জানালেন।

Print Friendly, PDF & Email