লক্ষ্মীপুর-ভোলা মজুচৌধুরীরহাট সড়ক : ১০ কিলোমিটারই বিপজ্জনক!

নিজস্ব প্রতিবেদক :  

ক্ষত-বিক্ষত, বিচ্ছিন্ন, ভয়ংকর এক অভিভাবকহীন সড়কের নাম লক্ষ্মীপুর-ভোলা মজুচৌধুরীরহাট সড়ক। যে সড়কটি দিয়ে চলাচল করছে ঢাকা-চট্রগ্রামসহ দেশের দক্ষিনাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। তাদের বানিজ্যিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এক মাত্র সড়ক এটি। তার উপর প্রতিদিনই সড়কটি দিয়ে চলাচল করছে ট্রাক, মাইক্রোবাস, পিকআপ, লেগুনা,পাহাড়ট্রলি, সিএনজি, অটোরিকসাসহ হাজার হাজার যানবাহন। তাছাড়া কয়েকটি ইউনিয়নের স্কুল-কলেজর হাজারো শিক্ষার্থীরসহ কয়েক লাখ মানুষ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়ক এটি। কতৃপক্ষের অবহেলা আর নজরদারির অভাবে দীর্ঘ ১০ কিলোমিটারই বিপজ্জনক।

সদর উপজেলার মজুচৌধুরীরহাট এলাকা মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত, যা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এজন্য মেঘনা নদী দেখতে হলে এক মাত্র সড়কটিই পর্যটকদের প্রধান মাধ্যম। শুধু স্থানীয়দের চরম দূর্ভোগ নয়, সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার সঠিকভাবে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে পর্যটন শিল্প।

অন্যদিকে, বৃহত্তর নোয়াখালীর সবচেয়ে বড় ‘ইলিশঘাট’ মজুচৌধুরীরহাট মেঘনাতীরে অবস্থিত। আর সেই অঞ্চলের রুপালী ইলিশ দেশ-বিদেশের মানুষের চাহিদা মেটাতে রপ্তানির প্রধান মাধ্যমও লক্ষ্মীপুর-ভোলা মজুচৌধুরীরহাট সড়কটি । প্রতিবছর এই রাস্তা দিয়ে শত শত টন ইলিশ রপ্তানী হচ্ছে যে রাস্তা দিয়ে আর সেই রাস্তাটির এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষনের কারনে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। তা দেখে সাধারণ মানুষ হতবাক। সড়কের অবস্থায় এতো নাজুক যে অধিকাংশ এলাকাজুড়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এই সড়কটিতে সিএনজি দিয়ে যাতায়াতকালে গাড়ির চাকা যখন বড় গর্ত কিংবা সড়কের বিচ্ছিন্ন অংশে পড়ে তখনই সড়কটি সংস্কারের কথা বলে, কবে হবে সংস্কার? এরকম আলোচনার সরগরম হয়ে উঠে যাত্রীদের মধ্যে। এ রাস্তা দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে আর পাঠদানে তাদের মন বসে না। এতে ভালো ফলাফল অর্জনে ব্যার্থ হচ্ছে তারা।

এদিকে, রাস্তাটি ঝুঁকিপূর্ণতার সূত্র এনে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগের আছে চালকদের বিরুদ্ধে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, লক্ষ্মীপুর- মজুচৌধুরীরহাট ১০ কিলোমিটার সড়কে সিএনজি ভাড়া ছিলো ৩০ টাকা, কিন্তু এখন ৪৫-৫০ টাকা দিতে হচ্ছে তাদের। চালকরা বলছে, রাস্তার ভাঙ্গা অংশ ও গর্তের কারণে, ব্রেক, চাকা এবং ইঞ্জিনসহ গাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়। এতে প্রতিদিন আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়।

Print Friendly, PDF & Email