তরুণকে কৌশলে বিষ খাওয়ানোর অভিযোগ

শরীয়তপুরঃ

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় মাছ ধরার জাল হারানোর কথা বলে চোর ধরতে প্রতিবেশীদের হুজুরের ‘রুটি পড়া’ খাওয়ানোর সময় একজনকে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মাইনুল হাসান (১৯) নামে ওই তরুণকে কৌশলে বিষ খাওয়ানো হয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নড়িয়া থানার নশাসন ইউনিয়নের ঢালিকান্দি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার আশরাফ-উদ-দৌলা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গুরুত্বর অসুস্থ মাইনুল বর্তমানে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

মাইনুলের বড় ভাই নাগরিক টিভির সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, তাদের গ্রামের বাড়ির প্রতিবেশী আব্দুর রব নামে এক ব্যক্তির জাল হারায়। এলাকায় কোনও কিছু হারালে কথিত হুজুরের কাছ থেকে ‘চাল পড়া’ খাওয়ানোর প্রচলন রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিবেশী আব্দুর রব চাল পড়ার বদলে ‘রুটি পড়া’ নিয়ে আসে। পরে প্রতিবেশীদের তা খাওয়ানো হয়। এই সময় আব্দুর রবের ছেলে হাবিবুর রহমান ঢালী ডেকে নিয়ে জোর করে মাইনুলকে একটি রুটি খাওয়ায়। এর কয়েক মিনিট পরই মাইনুল যন্ত্রণায় জ্ঞান হারায়। পরে আব্দুর রব ও তার ছেলে হাবিবুর রহমান তার মাথায় ১০১ বালতি পানি ঢালে। বিষয়টি তারা জানতে পেরে দ্রুত মাইনুলকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের আবাসিক সার্জন প্রাথমিক চিকিৎসা ও রক্ত পরীক্ষার পর জানান, তার শরীরে বিষক্রিয়া হয়েছে। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওই রাতেই তাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

আমিনুল ইসলাম আরও জানান, তার বাবা ফজলুর রহমান একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন। তার ছোট ভাই মাইনুল কুমিল্লায় থাকে। তাদের বাড়ির পাশে একটি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা আবুল খায়েরের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সম্প্রতি ওই প্রিন্সিপালের সঙ্গে তার বাবার বাকবিতণ্ডা হয়। তারা ধারণা করছেন, এর জের ধরেই মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের পরিকল্পনায় তার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিষ মাখানো রুটি খাওয়ানো হয়। জাল হারানোর কৌশলে যিনি রুটিতে বিষ দিয়েছেন সেই আব্দুর রব ওই প্রিন্সিপালের চাচাতো ভাই। এই বিষয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার আশরাফ-উদ-দৌলা বলেন, ‘বিষয়টি মৌখিকভাবে জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। ভিকটিমের পরিবারকে মামলা করতে বলা হয়েছে। মামলা হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Print Friendly, PDF & Email