কমলনগরে আবারও মেঘনার জোয়ারে পানিবন্দি ৬ ইউনিয়নের বাসিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মেঘনার অস্বাভাকি জোয়ারে আবার লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ৬ ইউনিয়নের বাসিন্দারা পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। এতে পানির নিচে নিমজ্জিত হয়ে ক্ষতির শিকার হচ্ছে এসব এলাকার গবাদিপশু, কৃষি ফসলী জমি, মৎস্য ঘের এবং নষ্ট হচ্ছে রাস্তাঘাট। বুধবার বিকেলে হঠাৎ মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারে এসব এলকার বাসিন্দারা পানিবন্ধি হয়ে পড়ে।

তবে স্থানীয়দের দাবী বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিনিয়তই জোরের পানিতে উপকূলের পাড়ের ইউনিয়ণগুলো প্লাবিত হয়। এতে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হতে হয় তাদের। এমন পরিস্থিতিতে তাদের রক্ষায় দ্রুত সরকারি বরাদ্ধ দিয়ে মেঘনার পাড়ে  স্থানীয় রক্ষাবাধ নির্মানের দাবী স্থানীয়দের।

জোয়ারে প্লাবিত ইউনিয়ণ গুলো হলো, চর কালকিনি, সাহেবের হাট, চর লরেন্স, চর মার্টিন, চর ফলকল ও  পাটোয়ারীর হাট ইউনিয়ণ। এসব ইউনিয়ন উপকূলে হওয়ায় প্রতিনিয়তই বিভিন্ন গ্রাম জোয়ারের পানিতে ডুবছে।

সরেজমিনে চর কালকিনি ইউনয়নে গিয়ে দেখা যায়, জোয়ারের পানিতে প্লাবিত পুরো ইউনিয়ন। বাড়িঘর, শতশত একর ফসলীজমি, রাস্তাঘাট,  ডুবে আছে পানিতে।  প্লাবিত  এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিনিই জোয়ারের পানিতে ডুবতে হয় তাদের। সব হারিয়ে এখন নিঃশ্ব তারা। তাদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। মেঘনার তীর রক্ষায় বাধঁনির্মাণে ধীরগতি। তাই একেরপর এক ধ্বংস হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম। তাই দ্রুত স্থানী বাঁধ নির্মাণের দাবী তাদের।

কমলনগর উপজেলার ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক রাকিব হোসেন সোহেল জানান, মেঘনার ভাঙ্গনে নিঃশ্ব উপকূলের বাসিন্দারা। বাধ্য হয়ে ঐতিহ্যবাহী নাছিরগঞ্জ বাজার রক্ষার জন্য স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে ৮ লাখ টাকা ব্যায়ে স্বেচ্ছাশ্রমে ১ হাজার মিটার এলাকা জঙ্গলাবাধ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বাজারটি রক্ষা হলেও এখন জোয়ারের ধাক্কায় বাধটি চুর্ণ -বিচুর্ণ।

তিনি আরো বলেন, বুধবার বিকেলেই জোয়ারের পানিতে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বাসিন্দা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসকল এলাকার মানুষকে বাচাঁতে সরকারী ভাবে দ্রুত বাধ নির্মান করা জরুরী। অন্যথায় মেঘনায় বিলিন হবে কমলনগর উপজেলা।

এদিকে মেঘনার জোয়ারে পানিবন্দি এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক সাগরসহ প্লাবিত ইউনিয়ন গুলোে ইউপি চেয়ারম্যান ।

Print Friendly, PDF & Email