বিশ্বে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের ডেথ ভ্যালিতে

পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য যেসব রেকর্ড রাখা হয়েছে, সেই অনুযায়ী সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কে। রোববার পার্কের একটি স্থানে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৫৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১৩০ ডিগ্রি ফারেনহাইট)।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস এই তাপমাত্রার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলজুড়ে একটি তাপপ্রবাহ চলতে থাকায় এই সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিকল হয়ে পড়ায় অঞ্চলটি দুই দিন ধরে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে।

”এখানে মারাত্মক গরম যেন আপনার মুখ পুড়ে যাবে,” বলছিলেন ডেথ ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কের একজন কর্মী ব্রান্ডি স্টুয়ার্ট।

মাঝে বিরতি দিয়ে পাঁচ বছর ধরে এই জাতীয় উদ্যানে কাজ করছেন স্টুয়ার্ট। অগাস্ট মাস জুড়ে বেশিরভাগ সময়েই তাকে ঘরের ভেতরে কাটাতে হয়েছে।

”যখন আপনি বাইরে হাঁটবেন, মনে হবে যেন হেয়ারড্রায়ার (চুল শুকানোর যন্ত্র) দিয়ে আপনার মুখে তাপ দেয়া হচ্ছে। আপনি গরম টের পাবেন এবং মনে হবে যেন একটি চুলার ভেতর দিয়ে হাঁটছেন আর চারপাশে তাপ ছড়ানো।” তিনি বলছেন।

এর আগের রেকর্ডগুলো কী?

রোববারের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ডেথ ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কের ফারনেস ক্রিকে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ায় শনিবার ‘ফায়ারনাডো’ দেখা গেছে। এটি হচ্ছে আগুনের টর্নেডো যা শুষ্ক ও প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের মধ্যে অনেক সময় তৈরি হয়।

এর আগে বিশ্বে সর্বশেষ সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নির্ভরযোগ্য রেকর্ডটিও এই ডেথ ভ্যালিতেই, ২০১৩ সালে। তখন রেকর্ড করা হয়েছিল ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পৃথিবীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা, ৫৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের রেকর্ড প্রায় একশো বছর আগে-সেটাও এই ডেথ ভ্যালিতে-যদিও সেই তথ্য নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বর্তমানকালের অনেক আবহাওয়াবিদ মনে করেন, ওই গ্রীষ্মের আরও কিছু রেকর্ডের মতো ওই তথ্যে ভুল রয়েছে।

আবহাওয়া ইতিহাসবিদ ক্রিস্টোফার বার্টের ২০১৬ সালে করা একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ১৯১৩ সালে ওই অঞ্চলের অন্যান্য রেকর্ডগুলোর সঙ্গে ডেথ ভ্যালির তাপমাত্রার রিডিং ঠিক মেলে না।

বিশ্বের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ১৯৩১ সালে তিউনিসিয়ায়। কিন্তু মি. মার্টের বলছেন, ঔপনিবেশিক সময়ে আফ্রিকার অন্যান্য এলাকার মতো এই তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

Print Friendly, PDF & Email