যত্ন নেওয়া মানে শুধুই দায়িত্ব নয়, এটা ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ

ছেলের মনটা খারাপ দেখছি ক’দিন যাবৎ, বুঝলাম টিনএইজের প্রকৃতিগত এবং সহজাত সমস্যায় ভুগছে ও। মাঝে মাঝে বিষন্নতা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকা অথবা রুক্ষ মেজাজ, প্রচুর অন্যমনস্কতা আর মাঝে মধ্যে অতি মাত্রায় ইমোশনাল হয়ে পড়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে ওর মাঝে। বুঝতে পারলাম এটা বয়ঃসন্ধিকালের সমস্যা, যে সমস্যায় সব টিনএজাররাই কম বেশি ভোগে।

টের পেলাম ক’দিন যাবৎ ছেলে কথা খুবই কম বলছে এবং হাসছেও না। নিজের মাথা ব্যাথা ইগনোর করে ছেলের প্রতি মনোযোগ দিলাম। আদর করলাম, মুখে মাথায় চুমু দিলাম, আর বল্লাম, “কি হয়েছে বাবা, মনটা খারাপ কেন?” ছেলে বল্ল, “আম্মু যাও”, আমি এক বিন্দুও নড়লাম না ছেলেকে দুই হাত দিয়ে জাপটে ধরে রাখলাম, কপালে, মাথায় হাত বুলালাম, “না যাবো না, আমি ছাড়া এমন করে আর কে আদর করবে তোমাকে, লক্ষী বাবা আমার, লক্ষ্মীসোনা বাবা”।

ছেলের মন একটু গললো মনে হলো, হেসে দিল একটুখানি ঠোঁটের কোনে। কিছুক্ষণ গল্প করলাম ছেলের সাথে, ছেলের মন কিছুটা হালকা হলো বলে মনে হলো। জানি এই সময়টা খুব সেনসিটিভ, এরপর থেকে আমি ওর সাথে খুব নরম ব্যবহার করে কথা বলতে লাগলাম।

আসলে এই টিনএজারদের মন বুঝতে পারাটা আমরা অনেক মা, বাবা কোনো দায়িত্ব এবং কাজ বলেই মনে করি না। ওদের মনটা যে বোঝার চেষ্ট করতে হয়, ওদের সাথে ওদের সুরে সুর মিলিয়ে ওদের মতো করেই কথা বলতে হয়। এটা যেমন আমাদের বোঝা উচিত তেমনি খুব সচেতন এবং ভালো ভাবে এ্যাপ্লাইও করা উচিত ওদের ক্ষেত্রে, তাহলে আমাদের সন্তান আর বাবা-মার মধ্যে কোনো প্রকার গ্যাপ বা দূরত্ব কখনোই গড়ে উঠবে না।

আমরা মনে করি সন্তানদের প্রতি দায়িত্ব পালন করছি ব্যস আর কি, কিন্তু ওদের প্রতি দায়িত্ব পালনই শুধু নয় ওদের মনেরও যত্ন নেওয়া উচিত। আর যত্ন নেওয়া মানে শুধুই দায়িত্ব নয়, এটা ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

ছেলেকে পড়তে দিলাম লেখাটা, ছেলে লেখা পড়ে আমার দিকে তাকিয়ে একটা ভেংচি কাটলো, বুঝলাম ছেলের মনের মেঘ গলতে শুরু করেছে।

Print Friendly, PDF & Email