রাশিয়ার খনিতে মিলল দুর্লভ রঙিন হীরা

উত্তর রাশিয়ার একটি খনি থেকে মিলল ২৩৬ ক্যারাট ওজনের গাঢ় হলুদ রঙের বিরল হীরা। ওই খনি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হীরা উৎপাদক সংস্থা অলরোসা’র মালিকানাধীন। রাশিয়ার কোনো খনি থেকে এর আগে এত বড় রঙিন হীরা পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

রাশিয়ার একেবারে উত্তর প্রান্তের ইতুকিয়া অঞ্চল চরম জলবায়ুর জন্য পরিচিত। শীতকালে এখানে প্রায় কোনো কাজকর্ম করা যায় না। গোটা এলাকা পুরু বরফের চাদরে ঢাকা থাকে। একমাত্র গ্রীষ্মের কয়েক মাস এখানে কাজকর্ম করা যায়। এখানকারই আনাবার নদীর তীরে অবস্থিত অলরোসার এবেলিয়াখ খনি। কয়েক দিন আগে সেই খনি থেকে ‘গাঢ় হলুদ-বাদামি রঙের’ দুর্লভ এই হীরাটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। সেটি ১২০ মিলিয়ন থেকে ২৩০ মিলিয়ন বছর পুরনো বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে আলরোসার এক শীর্ষ কর্তা পাভেল ভিনিখিন বলেছেন, ‘এত বড় আকারের রঙিন হীরা বিশ্বে খুবই কম পাওয়া যায়। যে কারণে এটি একটি ইউনিক আবিষ্কার।’ ওই হীরা কাটিং করার জন্য রাশিয়ার পাশাপাশি অনেক বিদেশি দামি দামি সংস্থা বিশেষ আগ্রহ দেখাবে বলে আশাবাদী তিনি।

যেটি ঘিরে এত চর্চা সেই দুর্লভ ২৩৬ ক্যারাট হীরার বাজার মূল্য কত, সেই বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। মূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার ওই সংস্থাটি। তবে সেটির দাম যে বিপুল হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

নিজেদের এই ‘আবিষ্কার’ পালিশহীন অবস্থায় বিক্রি করে দেয়া হবে নাকি সেটি তারা নিজেরাই পালিশ করবে সেই বিষয়ে দ্বিধায় অলরোসা। সংস্থাটি জানিয়েছে, হীরাটির মূল্য নির্ধারণ আপাতত তাদের প্রাথমিক কাজ। তার পরে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এবেলিয়াখ খনি থেকে রঙিন হীরা সন্ধানের ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৭ সালে এক মাসে ওই খনি থেকে তিনটি রঙিন হিরে সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। এগুলির রং ছিল হলুদ, গোলাপি এবং পার্পেল-পিঙ্ক। যেগুলোর বিশাল দর উঠেছিল।
সূত্র : এই সময়

Print Friendly, PDF & Email