লক্ষ্মীপুরে সেই সীমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল : স্বামী গ্রেপ্তার

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রেম করে বিয়ে করার  দুই মাসের মাথায় তুচ্ছ ঘটনায় প্রেমিক স্বামীর হাতে খুন হয় নববধু সীমা আক্তার। এঘটনার প্রায় তিন মাসের মাথায় খুনি রাশেদকে (৩০) গ্রেপ্তার করে ঘটনায় রহস্য উন্মোচন করলেন থানার নবাগত ওসি। গতকাল শুক্রবার (১৮ জুলাই) দুপুরে খুনিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে ঘাতক রাশেদ। রাতেই ওসি সাংবাদিকদের কাছে খুনের উন্মোচন ঘটনাটি অবহিত করেন।
নিহত গৃহবধু সিমা উপজেলার চরমোহনা গ্রামের হায়দার আলীর পুত্র ঘাতক রাশেদের স্ত্রী এবং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড ছৈয়াল বাড়ির মোঃ খোকনের মেয়ে।
গত ৪ মে উপজেলার চরমোহনা ইউপির দক্ষিন রায়পুর গ্রামের শশুর বাড়ী থেকে সীমা আক্তারকে (১৯) উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় সন্ধায় রায়পুর থানায় সাধারন ডায়রি করেছিলো সীমার মা সালেহা বেগম। তখন সীমা আক্তার কিভাবে মারা গেছেন ময়না তদন্তের রিপোট না আসা পর্যন্ত বলতে পারছেন না বলে জানিয়েছিলেন পুলিশ।।
সীমার মা সালেহা বেগম জানান, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর চার মাস আগে হায়দার আলীর ছেলে রাশেদ সীমাকে বিয়ে করে নীজ বাড়ীতে তুলেন। উভয়ের পরিবার তাদের সম্পর্ক ও বিয়ে মেনেও নিয়েছে। বিয়ের পর রাশেদ জানতে পারেন তার সীমার বাবা সুইপারের কাজ করে সংসার চালান । এনিয়ে প্রায় সময় দু’জনের মধ্য তুচ্ছ ঘটনায় মনমালিন্য ও একাধিকবার সীমাকে মানসিক ও শারিরীক নির্যাতনও করতো রাশেদ। সীমার লাশ দাফনের পরের দিনই রাশেদ তার বাড়ী থেকে লাফাত্তা হয়ে যায়। তখনি আমরা বুঝতে পেরেছি সীমাকে রাশেদ খুন করেছে।
এঘটনায় তখন রাশেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ঘটনার রাতে খাবার শেষে দু’জনে একসাথে গুমিয়ে পড়ি। কিছুক্ষণ পরে সীমার হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ায় চিৎকার দিলে মা এসে বলেন সীমা মারা গেছে। আমি জ্ঞান হারাই ও সকালে আমার জ্ঞান ফিরে। সীমাকে নির্যাতন বা অবহেলা করা হয়নি। আমরা একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করেছি।
রায়পুর থানার ওসি আব্দুল জলিল জানান, সীমাকে হত্যা করার পরের দিনই বাড়ী থেকে পলাতক ছিলো ঘাতক রাশেদ। প্রেম করার দুই মাসের মাথায় শশুর বাড়ীতেই প্রেমিক স্বামীর হাতে খুন হন সীমা আক্তার। শুক্রবার রাশেদকে তার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোর্পদ করা হলে সে ১৬৪ ধারায় বিচারকের কাছে সীমাকে শ্বাধরোধে হত্যা করেছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
Print Friendly, PDF & Email