লক্ষ্মীপুরে মেঘনার করাল গ্রাস : সব হারিয়ে নি:স্ব ওরা (পর্ব ১)

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মেঘনা নদীতে সর্বশেষ ভিটে-মাটি হারিয়ে টিনগুলো নিয়ে যাচ্ছি বাজারে বেঁচতে (বিক্রি করতে)। একসময় আমারও বাড়ি ছিল গোলা ভরা ধান/চাল ছিল। সবাই আমাকে ডাকতো জমিদার। অথচ আজ আমি নি:স্ব! ২ মেয়ে, ৪ ছেলে ও পঙ্গুু স্ত্রীকে নিয়ে খুব বিপদে আছি। সর্বনাশা মেঘনা নদী আমার সব কেড়ে নিয়েছে। ঘরের টিনগুলো বিক্রি করে এই এলাকা থেকে চলে যাবো। কোথায় আশ্রয় পাবো জানিনা। তবে আর মেঘনার পাড়ে থাকবো না।

কান্নাজনিত কন্ঠে কথা গুলো শীর্ষ সংবাদকে বললেন, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কালকিন ইউনিয়নের কালকিন গ্রামের মৃত কোবুত আলী বাঘার ছেলে মো. ইউসুফ বাঘা। নামে বাঘা হলেও চার ধাপে মেঘনা নদীতে বাড়ি/ঘর হারিয়ে এখন তিনি নি:স্ব। শুধু ইউসুফ বাঘা নয় ওই গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার মেঘনার করাল গ্রাসে সব হারিয়ে নতুন ঠিকানায় চলে গেছে। উপায়ন্ত না পেয়ে কয়েকটি পরিবার খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

ইউসুফ বাঘার মতো প্রায় একই সমস্যা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন ওই গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে আব্দুর রহমান। তিনি জানান, মেঘনা নদীতে সব হারিয়ে ৬ মেয়ে ও ২ ছেলে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। কেউ আমাদের দেখতে আসে না। স্থানিয় চেয়ারম্যান কিছু চাউলের ব্যবস্থা করে দিলেও থাকতে হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে। এদিকে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। মহান আল্লাহ্ ছাড়া আমাদের দেখার কেউ নেই!

আজ (১৭ জুলাই) শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালকিন গ্রামের অধিকাংশ ঘর/বাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। কয়েকটি পরিবার ঘর ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। কেউ কেউ আশ্রয় নিচ্ছেন নিকট আত্মীয়ের ঘরে। নদী ভাঙা অব্যাহত থাকায় হুমকির মুখে রয়েছে ওই গ্রামের নাছিরগঞ্জ বাজার। স্থানীয়রা স্বেচ্ছায় জংগলা বাঁধা নির্মাণ করলেও তা উপড়ে নতুন করে ভাঙছে বাজার। যেন কিছুতেই মেঘনার ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না।

স্থানিয় হারিছ মিয়া জানান, সাহেবের হাট, বাঘাপুল, চৌরাস্তা বাজার, তালতলী, বার্তিরখাল, নবীগঞ্জ বিশ্বরোড, কাদিরপন্ডিতের হাট নদীগর্ভে প্রায় বিলিন হয়ে গেছে। এখন নাসিরগঞ্জ বাজার রক্ষায় স্থানীরা জংলা বাঁধ নির্মাণ করেছে। তাতেও কাজ হচ্ছে না। হয়তো আগামী ৮/১০ দিনের ভেতর নাছিরগঞ্জ বাজারটিও কমলনগরের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। এমতা অবস্থায় মহান আল্লাহকে ডাকা ছাড়া কোন উপায় নেই।

আব্দুল খালেক ও নুর মোহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, জনপ্রতিনিধিরা আন্তরিক না থাকায় আজ আমাদের এ অবস্থা। আগেই যদি ব্লক দিয়ে বাঁধ নিমার্ণ করা হতো, তবে আজ এমন দৃশ্য দেখা যেতো না। সবায় আশা দেয় কিন্তু বাস্তবায়ন যেন মরিচিকা।

চলবে…

Print Friendly, PDF & Email