লক্ষ্মীপুরে লিভার আক্রান্ত আজগর পেল প্রবাসীদের অনুদান

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুরে লিভার ও কিডনিজনিত রোগী মোঃ আজগর আলীকে চিকিৎসার জন্য নগদ ৬০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেছেন নরুল্যাপুর প্রবাসী সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন নামে একটি সেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন।

বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের নরুল্যাপুর গ্রামের নরুল আমিন মাষ্টার বাড়িতে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অসুস্থ আজগর আলী ও তাঁর স্ত্রী হাসিনা আক্তার মুন্নীর হাতে এ নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, নুরুল্যাপুর প্রবাসী সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক রাজু আহম্মেদ রাজন, চরশাহী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলজার মোহাম্মদ, ইউপি সদস্য ইব্রাহীম হোসেন বাবলু, উপদেষ্টা মাকছুদুর রহমান খিজির, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মন্জুরুল আলম রিন্টু ও কফিল উদ্দিন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মোঃ আবদুল হান্নান।

অসুস্থ আজগর আলী নরুল্যাপুর গ্রামের মোঃ খলিলুর রহমানের ছেলে ও পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন। তিনি গত কয়েকমাস পূর্ব থেকে লিভার ও কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। তাঁর এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে। তার থাকার ঘরটিও কালবৈশাখী ঝড়ে গুড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বাবার ঘরে থাকেন।

অসুস্থ আজগর আলী বলেন, ছোটবেলা থেকে বাবার অভাবী সংসারে দুঃখকষ্টে বড় হয়েছি। সামান্য বুদ্ধি হওয়ার পরে জীবিকার জন্য ছুটে যাই চট্টগ্রামে। সেখানে একটি ওয়ার্কশপে ইলেক্ট্রিক্যাল কাজ শিখি। কয়েক-বছর ভালোভাবে জীবন কাটে। পরে গ্রামে চলে আসি বিয়ে করি। বাড়িতে থেকে মাটিকাটা থেকে শুরু করে ধানকাটা কাজ পর্যন্ত করছি। যখন যেকাজ পেতাম, সেকাজ করতাম। এরমধ্য আমার এক ছেলে এক মেয়ে জম্ম হয়।কোনোরকম সুখেদুঃখে সংসার চলে। হঠাৎ অসুস্থতা দেখা দিলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বুঝতে পারি লিভার ও কিডনিজনিত রোগ আমার শরীরের ভাষা বেঁধেছে। বর্তমানে স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটে। আজ আমার চিকিৎসার জন্য নরুল্যাপুর প্রবাসী সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ৬০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছে। আমি সকল প্রবাসী ভাইদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।

জানতে চাইলে নরুল্যাপুর প্রবাসী সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোঃ মোরশেদ আলম বলেন, পৃথিবীতে মানব সেবা বড় ধর্ম। তাই আমাদের প্রতিটি বিবেকবান মানুষের উচিত সমাজের অসুস্থ আজগর আলীদের খোঁজে বের করে তাদের চিকিৎসার জন্য এগিয়ে এসে তাদের পাশে দাঁড়ানো।

Print Friendly, PDF & Email