মাঝে মাঝে কেউ যেন আমাকে অদৃশ্য একটা কফিনে শুয়ে দিচ্ছে

ঢাকা : ফেসবুক স্ট্যাটাসে “মাঝে মাঝে কেউ যেন আমাকে অদৃশ্য একটা কফিনে শুয়ে দিচ্ছে” এই লেখা পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া গেল কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্যারগণ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালকের ঝুলন্ত লাশ। নিজের প্রতিষ্ঠিত স্কুলের শ্রেণি কক্ষে থেকে এসএম রওশন সরদারের (৫৭) নামের ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত পরিচালক উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বজরা সাদুয়া দামার হাট সরদার পাড়া গ্রামের নুরুজ্জামান সরদারের ছেলে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ। এ সময় নিহতের মরদেহের পাশ থেকে পুলিশ একটি চিরকুট উদ্ধার করে। এই চিরকুট উদ্ধার ও নিহতের শেষ ফেসবুক স্ট্যাটাসকে ঘিরেই এখানে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, উলিপুর পৌর শহরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী প্যারাগণ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এসএম রওশন সরদার এসএম রওশন ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই বসবাস করতেন। তার ছোটভাই জাফর সাদেক সরদার হিরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশেই পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।

প্রতিদিনের ন্যায় ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সকালের নাস্তা দিতে গিয়ে দেখতে পান প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কক্ষের আড়ার সঙ্গে ভাসুর এস এম রওশন ঝুঁলে আছেন। তখন তিনি পরিবারের সকলকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

নিজ প্রতিষ্ঠানের একটি শ্রেণি কক্ষের আড়ার সঙ্গে রশিতে ঝুঁলে আত্মহত্যা করেন। কিন্তু রশিতে ঝুঁলে আত্মহত্যা করলেও তার পা শ্রেণি কক্ষের মেঝেতে স্পর্শ করা ছিল। মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার ও রশিতে ঝুঁলে থাকার ধরন নিয়ে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

চিরকুটের লেখা তদন্তের স্বার্থে পুলিশ প্রকাশ করেনি। ওই পরিচালক সোমবার রাতে তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন “মাঝে মাঝে মনে কেউ যেন আমাকে অদৃশ্য একটা কফিনে শুয়ে দিচ্ছে”।

ফেসবুকে তার এই শেষ স্ট্যাটাস ও চিরকুটকে ঘিরে নানা রহস্যর সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে জনমনে ধূম্রজালের সৃষ্টি করে। এলাকাবাসী নিহতের মৃত্যুটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা খতিয়ে দেখা জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারী দাবি করেন।

এ ব্যাপারে উলিপুর থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। এনিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে চিরকুটের ভাষা প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

Print Friendly, PDF & Email