করোনা পরিস্থিতিতে লক্ষীপুরে প্রশংসিত হচ্ছে ব্র্যাক

সংবাদদাতা :

দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে শুরু থেকেই ব্র্যাক লক্ষীপুর জেলার প্রতিটি উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রামে এবং পৌর এলাকার পাড়া-মহল্লায় মাইকে প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে সচেতনতা করা, মাস্ক, লিফলেট বিতরণ ও বাড়িতে বাড়িতে স্টিকার লাগানো, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে বৃত্ত অংকন, গাড়ীতে জীবানুনাশক স্প্রে করা, হাট-বাজার ও শহরের বিভিন্ন স্থানে হাত ধোয়ার জন্য সাবান-পানির ব্যবস্থাকরণসহ ব্র্যাকের বিভিন্ন কর্মসূচী যেমন, স্বাস্থ্য পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচী, সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচী, শিক্ষা কর্মসূচীর মাধ্যমে অতি দরিদ্র পরিবারকে নগদে এবং বিকাশের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা প্রদান সহ নানাবিদ কর্মসূচী অব্যাহত রেখেছে।

এছাড়া সরকারের পাশাপাশি দেশ ও জনগণের কল্যাণে সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সদস্যদের প্রদানকৃত ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রেখেছে, এরই ধারাবাহিকতায়ব্র্যাক কার্যক্রম বাস্তবায়নে মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচীর ইস্ট ডিভিশনের ডিভিশনাল ম্যানেজার (দাবি) রাজেশ কুমার সাহা ও কোস্টাল ডিভিশনের ডিভিশনাল ম্যানেজার (প্রগতি) মো: আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে লক্ষীপুর জেলার আঞ্চলিকব্যবস্থাপক (দাবি) মো: আওলাদ হোসেন , মিলন কান্তি দে আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (প্রগতি) ও প্রদীপ রন্জন ভৌমিক আঞ্চলিক হিসাব ব্যবস্থাপক এর তত্বাবধানে বিশ্বের সর্ববৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক লক্ষীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার রাখালিয়াবাজার এলাকার এরিয়া অফিসের উদ্যোগে সরকারের পাশাপাশি দেশ ও জনগণের কল্যাণে সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সদস্যদের প্রদানকৃত ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রেখেছে ৷ পাশাপাশি আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য নগদ/বিকাশের মাধ্যমে সঞ্চয় ফেরত ও সদস্যদের চাহিদার ভিত্তিতে কৃষি শস্য উৎপাদন ও প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যবসার চাকা সচল রাখার নিমিত্তে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ৷ বাংলাদেশের করোনা সংক্রমণের প্রথম থেকেই রাখালিয়াবাজার এলাকার আওতাধীন ৪টি শাখা রাখালিয়াবাজার, কাঞ্চনীবাজার, চৌধুরীবাজার, শাকচর শাখার অফিসের কর্মীরা দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে যখন সারা দেশ স্থবির হয়ে পড়েছে সে সময় তারা সদস্যদের ফোন করে সদস্য ও তার পরিবারের খোঁজ খবর নিয়েছে এবং করোনা থেকে মুক্ত থাকার জন্য বিভিন্ন রকমের পরামর্শ প্রদান করেছে ৷

ব্র্যাকের জেলা আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো: আওলাদ হোসেন বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম থেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয় ব্র্যাক। ব্র্যাকের উদ্যোগে লিফলেট বিতরণ, সাবান বিতরণ, আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে , করোনাভাইরাসের কারণে সরকারের বিধিনিষেধ অনুযায়ী কাউকে ঋণ পরিশোধ করতে চাপ দেওয়া হচ্ছে না। বরঞ্চ অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে আমরা ঋণ প্রদান করছি। করোনা ভাইরাসের কারণে ডিপোজিট ও সঞ্চয়ের টাকা কেউ নিতে চাইলে বিকাশের মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্র্যাক সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছে। আর্থিক সংকটে পড়া রাখালিয়াবাজার এলাকার মাইনুর বেগম বলেন পরিবারের আয়ের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমি খুবই হিমশিম খাচ্ছিলাম ৷ এমতাবস্থায় ব্র্যাক অফিস থেকে ফোন করে আমার খোঁজ খবর নেন এবং আমার সমস্যা বিবেচনা করে আমাকে বিকাশের মাধ্যমে সঞ্চয় ফেরত দেয় যার ফলে আমি আমার পরিবারের আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারি ।

সঞ্চয় গ্রহণের জন্য আমাকে অফিসেও যেতে হয়নি ৷ ব্র্যাকের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আমি খুব খুশি এবং ব্র্যাকের নিকট কৃতজ্ঞ । আর এক সদস্য পারভীন বলেন, করনা চলাকালীন আমার স্বামীর মাছের ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এমন সময়ে ব্র্যাক অফিস থেকে আমার খোঁজ খবর নেয় এবং আমার সমস্যা বিবেচনা করে আমাকে ঋণ প্রদান করে, ঋণ পেয়ে আমার স্বামী পুনরায় ব্যবসা শুরু করে এবং আমরা ভালো আছি ৷ ক্রান্তিকালে ঋণ দিয়ে মানুষের পাশে থাকার জন্য ব্র্যাককে ধন্যবাদ জানান তিনি ৷ব্র্যাকের রাখালিয়াবাজার এলাকা ব্যবস্থাপক মোঃ বোরহান উদ্দীন, বলেন, বর্তমানে ব্র্যাক রাখালিয়াবাজার এরিয়া এলাকায় সদস্যদের সমস্যা বিবেচনা করে কিস্তি প্রদান করার জন্য কোনও প্রকার চাপ প্রদান করা হচ্ছে না বরং সদস্যদের চাহিদার ভিত্তিতে প্রয়োজনে ঋণ দিয়ে আর্থিক আয়ের পথকে গতিশীল রেখে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সর্বাত্বক সহায়তা করা হচ্ছে । রাখালিয়াবাজার এলাকার ব্র্যাক কার্যক্রম বাস্তবায়নের যথাযথ ভূমিকা রাখেন রাখালিয়াবাজার এলাকা ব্যবস্থাপক মোঃ বোরহান উদ্দীন, রায়পুর বাজার এরিয়ার এলাকা ব্যবস্থাপক (প্রগতি) মো: হাফিজুল ইসলাম , চৌধুরীবাজার এরিয়ার এলাকা ব্যবস্থাপক (প্রগতি) সুভঙ্ককর হালদার , রায়পুর উপজেলার উপজেলা ব্যবস্থাপক ( হিসাব) নুরুল আলম , রাখালিয়াবাজার শাখার শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ ফারুক, চৌধুরীবাজার শাখা ব্যবস্থাপক মো: আব্দুল্লাহ, শাকচর শাখার শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ স্বপন মিয়া কাঞ্চনীবাজার শাখা ব্যবস্থাপক মো: মোস্তফা এছাড়া রাখালিয়াবাজার শাখার সিও (প্রগতি) আবু তালেব ও শাখা হিসাব কর্মকর্তা আবু কালাম তাহারা সকলেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সরকার এবং স্থানীয় প্রশসানের সাথে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছেন

সরেজমিনে ব্র্যাকের রাখালিয়াবাজার কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, সঙ্কটকালিন সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে ব্র্যাকের মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির সদস্য-সদস্যাদের চাহিদা মাফিক ঋণ প্রদান, গ্রামীণ কৃষিকে সচল রাখতে এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে কৃষি ঋণ প্রদান, খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদস্য-সদস্যাদের সঞ্চয়ের টাকা প্রদানে সহায়তা করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email