লক্ষ্মীপুর পৌর ৬নং ওয়ার্ড, মাদক আর কিশোর গ্যাংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মাদক আর কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রাণ কেন্দ্র আবাসিক এলাকা পৌর ৬নং ওয়ার্ড। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে চারদিকে  মানুষ গৃহ বন্দি। এ সুযোগে মাথা ছাড়া দিয়ে উঠেছে এ গ্যাংয়ের সদস্যরা। সকাল কি বিকেল, দিন কি গভীর রাত, ২৪ ঘন্টা জুড়েই পাড়া, মোহল্লা , বিভিন্ন বাড়ির ছাদে মাদক ও জুয়াসহ অসামাজিক কার্য চালিয়ে যাচ্ছে এ চক্রের সদস্যরা।

এতে  প্রায়ই এলাকায় ঘটছে মটর সাইকেলসহ বিভিন্ন চুরির ঘটনাও। এদের এমন আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। অপরদিকে নষ্ট হচ্ছে যুব সমাজ।  তাই জনজীবনে স্বস্থি ফেরাতে প্রশাসনের সহায়তা চাচ্ছেন এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডে ‍ শিল্পী কলোনী, সোনালী কলোনী, সবুজ কলোনী, জেবি রোড,   ল’ ইয়ার্স কলোনী ও রেহান উদ্দিন ভূইয়া সড়ক সহ বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য আবাসিক এলাকা রয়েছে। এসব এলাকায় সরকারী/বেসরকারী বিভিন্ন পেশার সুনামধ্য মানুষের বসবাস। বর্তমানে এসব গ্যাংয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে তাদের জীবন।

স্থানীয়রা জানায়, এসব এলাকার বিভিন্ন চিপা মোড়ে ও বাড়ির ছাদ দখলে করে  মাদক সেবী  কিশোর গ্যাং চালাচ্ছে অসামাজিক কার্য কলাপ। বিশেষ করে শিল্প কলোনী এলাকার ঝর্ণা ভবনের ছাদেই এসব মাদক সেবী দের আড্ডা খানা। দিন- রাত বিভিন্ন সময় আসর বসানো হয়  জুয়া আর মাদকের  । অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয়রা।  এতে একদিক  নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ, অপর দিকে হুমকির মুখে যুবসমাজ ও নতুন প্রজন্ম।

এছাড়াও শিল্প কলোনীর খোকার চা দোকানের পাশে পোড়া বাড়ি,  সোনালী কলোনী রাস্তার মাথা, সোনালী কলোনী খালপাড় (বৗজের গোড়া),   জেবি রোড, রেহান উদ্দিন ভূঁইয়া সড়ক, শিশু পার্ক সংলগ্ন এলাকা ও বাজার সংলগ্ন যুবলী দীঘির  পশ্চিম ও উত্তর পাড় সহ বিভিন্ন স্থানে এদের বিচরণ। এ চক্রে পুলিশের তালিকা ভুক্ত স্থানীয় চিহ্নিত মাদক সেবীদের পাশাপাশি রয়েছে বৈহিরাগত মাদকসেবীদের আগমন। আর এসব মাদকসেবীরা নেশার টাকা যোগান দিতে প্রতিনিয়তই ঘটাচ্ছে চুরি-চিনতাই, চাঁদাবাজী সহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ।এর মধ্যেই কয়েকদিন পূর্বে সোনালী কলোনী এলাকায় ভাড়া বাসার গেইট কেটে খোদ সদর থানার এক পুলিশ সদস্যের মটর সাইকেল চুরি হয়েছে। এর আগেও পৌরসভার এ ওয়ার্ডে উল্লেখযোগ্য বিভিন্ন চুরি-চিনতাইর ঘটনা ঘটেই চলেছে।

সোনালী কলোনী এলাকার মুদি দোকানী মো. জহিরসহ শিক্ষক, ব্যাংকার ও সরকারি চাকুরীজীবিসহ কয়েকজন জানান, ৬নং ওয়ার্ড পৌরসভার সবচেয়ে পরিচিত আবাসিক এলাকা। এক সময় সুনাম ধণ্যরা এসব এলাকায় বসবাস করার আগ্রহ প্রকাশ করতো। মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারে তাও এখনা বসবাসের আগ্রহ হারিয়ে পেলছে। এদের আনাগোনার কারণে বসবাসরত পরিবারগুলো সন্তানদের মানুষ করার পরিবেশ পাচ্ছে না। মাদকাসক্ত পরিবেশের কারণে অনেক স্থানী পরিবার সন্তানদের মানুষ করতে নিজ বাড়ি ভাড়া দিয়ে অন্য ওয়ার্ডে গিয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছেন। আবার আবাসিক এলাকার ভাড়াটিয়ারাও এমন পরিবেশের কারণে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।

এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে এলাকায় চুরি-ছিনতাইর পাশাপাশি ঘটে যেতে পারে বড় ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটানও। তাই লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের এসব মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে এবং বসবাসরত মানুষের মাঝে স্বস্থি ফেরাতে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

চলবে… 

Print Friendly, PDF & Email