লক্ষ্মীপুরে চুরি হওয়া মহিষ উদ্ধার : আটক ২

শখের মহিষ। মায়া হয়ে গেছে। মহিষগুলো আমাকে দেখে ভ্যা-ভ্যা করে ডাকে। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার ওদের দু’চার গ্রাম দুরে রেখে ছেড়ে দিলেও যতই বড় নদী হোক সাঁতরে খোয়াড়ে চলে আসে। এভাবেই বলছিলেন মহিষের মালিক কৃষক রফিকুল ইসলাম। সম্প্রতি পটুয়াখালী থেকে ২০টি মহিষ চুরি হয় কৃষক রফিকুল ইসলামের।

গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের মজুচৌধুরী হাট এলাকা থেকে ২০টি মহিষ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় দুই মহিষ চোরকে আটক করা হয়।

(১৭ জুন) বুধবার লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজিজুর রহমান মিয়া গণমাধ্যম কর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আটকৃতরা হলেন পটুয়াখালীর সরোয়ার ও বরগুনার জেলার পূর্ব সিলা হলুদিয়ার এলাকার আনিস আকন।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী জানায়, গত ১১ জুন সকাল ৬টার দিকে ৩৭টি মহিষ পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী থানার কাউখালীর চরে বন বিভাগ কেওরা বাগানে মধ্যে ঘাস খাওয়ার জন্য ছেড়ে রাখি। ব্যক্তিগত কাজে রাঙ্গাবালী বাহেরচর বাজার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে যাই। ওই স্থান থেকে এসে দেখি ৩৭টি মহিষের মধ্যে ২০টি মহিষ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক খোঁজা খুঁজির পর নিরুপায় হয়ে গত ১২ জুন শুক্রবার রাঙ্গাবালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করি। যাহার ডায়েরী নং ৩৭৯।

পরে গোপন খবরে জানতে পারি লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরী হাট এলাকায় রাত ১১টার দিকে চোর চক্র মহিষগুলো ট্রলারে করে নিয়ে আসে। পরে স্থানীয় শহিদ উল্ল্যা ও নির্মাণ শ্রমিক লীগের লক্ষ্মীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক মাহফুজের নেতৃত্বে ট্রান্সর্পোট করার সময় মহিষগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় মাহফুজ ও শহীদ উল্যাহ পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দুই চোরকে পুলিশ আটক করে কারগারে প্রেরণ করেন।

মহিষের মালিক মো. রফিকুল ইসলামের দাবী, এলাকায় এ যাবৎ যত কৃষকের গরু-মহিষ চুরি হয়েছে তা এ চোরচক্র করেছে। এরা ট্রলারে বালু সাপ্লাই দিয়ে রাতে কৃষকের গরু-মহিষ চুরি করে নেয়। এসব চোর চক্রের সদস্যরা স্থানীয় এবং এদের নেটওয়ার্ক সারাদেশে রয়েছে। উল্লেখিত আসামীদের রিমান্ডে নেয়া হলে গরু-মহিষ চুরির আরো ঘটনা বের হয়ে আসবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চোর চক্রের সদস্য চুঙ্গির বেপারী শহীদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

অভিযুক্ত জেলা নির্মাণ শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজের সাথে যোগাযোগ হলে তিনি বলেন, মজুচৌধুরীর হাট এলাকায় থেকে যত গরু মহিষ বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রান্তে যায় সব আমার ট্রান্সপোটের মাধ্যমে যায়। মালবাহী, কাঁচা মালবাহী বিভিন্ন পণ্য দেশের বিভিন্ন জেলাতে যায়। ট্রাক প্রতি এক হাজার টাকার চালান দেয়া হয়। মহিষ চুরির ঘটনার সাথে আমার কোনো সর্ম্পক নেই। আমার ট্রান্সর্পোট থেকে যে আয় হয় ঐ টাকা দিয়ে আমার সংসার চলে।

মহিষ উদ্ধারের বিষয়ে চররমনী মোহন ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল জানায়, ঘাট এলাকা দিয়ে প্রায় সময় অবৈধ ভাবে গরু-মহিষ পারাপার হয়ে থাকে। স্কুলের সামনে দিয়ে মাহফুজ ও চুঙ্গির বেপারী শহিদের নেতৃত্বে গরু মহিষ চালান করা হয় বলে মহিষের মালিক আমার কাছে অভিযোগ করেন। মাহফুজ প্রতি চালান থেকে এক হাজার টাকা প্রতি ট্রাক থেকে নেয়া হয় তার কোনো বৈধতা নেই।

জেলা নির্মাণ শ্রমিক লীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন বলেন, গঠনতন্ত্র বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে মাহফুজকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সে নির্মাণ শ্রমিক লীগের বর্তমানে কোনো পদে নেই। তিনি ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের দায়িত্বে রয়েছেন।

সদর থানার ওসি একেএম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, আটককৃতদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মহিষ মালিকানা যাচাই করে প্রকৃত মালিকের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email