অস্তিত্ব নেই ভবন ও কার্যক্রমের, এমপিওভুক্তির তালিকায় ইবতেদায়ী মাদরাসা

রাজিব হোসেন রাজু :

নেই ভবন, শিক্ষা কার্যক্রম কিংবা শিক্ষার্থী। তবুও এমপিওভুক্তির তালিকায় নাম এসেছে ইবতেদায়ী মাদরাসার। অনিয়ম কে নিয়ম করে প্রস্তুতি নিচ্ছে নতুন করে কার্যক্রম চালানোর। এতে সরকারি খাস জমিও দখলের অভিযোগ উঠেছে। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে এমনই অভিযোগ পাওয়া যায়।

জানা যায়, তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে ২০১১সাল থেকে এলাকাবাসীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আসছে হোসেনপুর আদর্শ নুরানী মাদরাসা। এলাকাবাসীর দান করা জমিতে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রতি সরকার চলমান স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সিদ্ধান্তের আলোকে যে সকল প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে তাদেরকেই এমপিওভুক্তির জন্য বিবেচনা করা হবে। কিন্তু একটি চক্র ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে হোসেনপুর হেদায়েতিয়া এবতেদায়ী মাদরাসা নামের একটি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করে। অথচ এ নামে হোসেনপুর কোন প্রতিষ্ঠান নেই, নেই কোন কার্যক্রম, নেই ভবন বা শিক্ষার্থী। হোসেনপুর আদর্শ নুরানী মাদরাসাকে ব্যবহার করেই তারা কাগজপত্র জমা দিয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, আমরা সবাই মিলে ২০১১সালে হোসেনপুর আদর্শ নুরানী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করি। এর শিক্ষক বেতন, প্রতিষ্ঠানিক খরচ সহ যাবতীয় খরচ নিজেরাই বহন করে আসছি। কিন্তু কিছু কুচক্রী মহল আমাদের প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে অন্য নামে একটি মাদরাসা এমপিওভুক্তি করেছে। তাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ক্লাস কিছুই নেই। আমাদের মাদরাসার কার্যক্রম দেখিয়ে প্রতারনা করে তারা নতুন মাদরাসার অনুমোদন নিয়েছে। একই স্থানে দুটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা হলে আমাদের কার্যক্রম যেমন ব্যাহত হবে ঠিক শিক্ষার্থীও পাওয়া যাবে না। আমাদের কষ্টে গড়া মাদরাসাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া তারা যে মাদরাসা গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তার নেই কোন জায়গা। সরকারি খাস জমি দখল করে সেখানে ভবন নির্মানেরও পরিকল্পনা নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। হোসেনপুর আদর্শ নুরানী মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাইফ উদ্দিন মাষ্টার বলেন, আমরা চাই সরকারি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করুক। কিন্তু সেটা অন্যত্র। আমাদের এখানে করলে আমাদের কষ্টে গড়া প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোসেনপুর হেদায়েতিয়া ইবতেদায়ী মাদরাসার সমন্বয়ক আবদুর রহিম বিষয়টি এড়িয়ে যান। হোসেনপুর হেদায়েতিয়া এবতেদায়ী মাদরাসা সম্পর্কে তার কিছু জানা নেই।

তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর হোসাইন ভুলু বলেন, হোসেনপুর হেদায়েতিয়া ইবতেদায়ী মাদরাসা অদৃশ্য হলেও এখন দৃশ্যমান করা হচ্ছে। আগে হোসেনপুর আদর্শ নুরানী মাদরাসার সাথে যৌথ কার্যক্রম পরিচালিত হতো। একই জায়গায় দুটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি নুরানী মাদরাসা অন্য ইবতেদায়ী মাদরাসা। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি আবদুর রহিম জানান, এখানে বহু আগে একটি এবতেদায়ী মাদরাসা ছিলো। কয়েকদিন চলার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এখন আবার তারা নতুন করে মাদরাসাটির কার্যক্রম শুরু করেছে। এ বিষয়ে সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায় নি।

Print Friendly, PDF & Email