লক্ষ্মীপুরে খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মান : সেচ ব্যবস্থা বন্ধ!

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি :

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কেরোয়া ইউপির বিভিন্ন স্থানে খালের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে খালের সেচ বন্ধসহ প্রশস্ততা সঙ্কুচিত হওয়ার পাশাপাশি পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে ইরি-বোরো চাষে ভয়াবহ সেচ সঙ্কট দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার কেরোয়া ইউপির লুধুয়া সড়কের মীর বাড়ী সংলগ্ন পাকা সড়কের পাশে দুটি বসতবাড়ী নির্মাণ করে খালের প্রায় ১০ শতাংশ জায়গা দখল করে অবৈধভাবে বিশালাকার পাকা ভবন নির্মাণকাজ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী লোকমান,আমির জমাদার,সফিউল্লাহ,মোহাম্মদ ও শাহজাহান।

স্থানীয় ও বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, প্রায় শত বছর আগে ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ খাল থেকে উৎপন্ন হয়েছে। শুষ্ক মওসুমে কৃষকদের সেচ সুবিধার জন্য পরবর্তীতে খালটি সরকার খনন করার উদ্যোগ নেয়। করোনার সময় খনন বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে খালটির বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালীদের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের ফলে প্রশস্ত খালকে ভরাট করে ড্রেনে পরিণত করা হয়েছে। ফলে পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় সেচ কাজে তেমন একটা সুবিধা পাচ্ছেন না কৃষকেরা। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী মওসুমে ইরি-বোরো চাষে মারাত্মক সেচ সঙ্কট দেখা দেয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কেরোয়ার লুধুয়া গ্রামের ইউপি সদস্য মোঃ সোহেল বলেন, গ্রামের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ এই খাল। দখলদারিত্বের কারণে এটি অনেকটাই ছোট হয়ে এসেছে। নির্মাণাধীন ভবনগুলোর জন্য খালে পানির প্রবাহ কমে গেছে। ফলে বর্ষা মওসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি রাস্তা ও খালের জমি এভাবে দখল হলেও প্রশাসনের নজরদারি নেই। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রভাবশালী হওয়ার কারণে কেউ দখলদারদের অবৈধ কাজে বাধা দিতে সাহস পান না। অথচ কয়েক বছর আগেও এ স্থানটিতে বিশাল খাল-জলাধার ছিল। শুধু এই খালই নয়, আরো বহু সরকারি পুকুর-জলাশয় ভরাট করে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান করা হয়েছে। সম্প্রতি কয়েক বছর ধরে কেরোয়াসহ উপজেলার প্রতিটি ইউপিতে চলছে যেখানে সেখানে সম্পূর্ণ ব্যক্তিস্বার্থে জলাশয় ভরাট ও দখলের প্রতিযোগিতা; যে কারণে রায়পুর উপজেলার বেশির ভাগ খাল একে একে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে।

কেরোয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোকসেদ উল্লাহ জানান, নদী, খাল-বিল ও সাগরের জোয়ার-ভাটার পানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারী সব ধরনের স্থাপনা অবিলম্বে ভেঙে ফেলার প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও রায়পুরে তা মানা হচ্ছে না। একে একে সব খাল-জলাধার দখল করে নিচ্ছে প্রভাবশালীরা। আর উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা শুধু নীরবে চেয়ে চেয়ে দেখছে। প্রভাবশালীদের নির্মাণাধীন অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা না হলে ফসল উৎপাদন ও স্থানীয়দের পণ্য পরিবহন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে জানান এলাকার বাসিন্দারা।

খালের ভিতরে ভবন একটু বেশী চলে গেছে স্বীকার করে অবৈধ স্থাপনা নির্মানকারী আমির জমাদার ও সফিউল্লাহর স্ত্রী সালেহা বেগম বলেন, অনেকেই তো খাল-নদী দখল করে ভবন করছেন। সেটা দেখেন না ? আপনারা পত্রিকায় রিপোট দিলে কোন লাভ হবে না। পাউবোতে আমাদের লোক আছে। বরং কষ্ট করে আসছেন। কিছু টাকা নিয়ে চলে যান। পরে দেখা করবো।।

এ ব্যাপারে উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভুমি) আক্তার জাহান সাথী বলেন, খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি আমাদের নজরে নেই। দ্রুত আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে খাল দখলমুক্ত করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email