এমপি পাপুল আওয়ামীলীগের কেউ নয়! দাবী স্থানীয় নেতাদের

কুয়েতে মানবপাচারে হাজার কোটি টাকার কারবারের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল আওয়ামীলীগের কোন পদপদবীতে নেই এবং আওয়ামীলীগের কেউ নয় বলেও দাবী করেন সংসদীয় আসনের আওয়ামীলীগের নেতারা। শনিবার রাতে কুয়েতের মুশরেক আবাসিক এলাকা থেকে ওই দেশটির ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। মানবপাচারের সাথে জড়িত থাকলে সুষ্ঠ তদন্তের দাবী জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

সংসদীয় আসনের স্থানীয়রা জানায়, কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল। মারাতিয়া কুয়েতি গ্রুপ অব কোম্পানীজ এর সত্বাধিকারী তিনি। বিগত জাতীয় নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর আসনে ১৪ দলীয় জোট ও জাতীয় পার্টির সমঝোতার মাধ্যমে মনোনয়ন পেয়েছিলেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ নোমান। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন পাপুলসহ আরো অনেকেই। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে আপেল প্রতীক নিয়ে তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন। পরে এক পর্যায়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান জাতীয় পার্র্টি প্রার্থী মোহাম্মদ নোমান। তখন আলোচনার শীর্ষ ছিল মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পাপুল ওই ১৪ দলীয় প্রার্থী নোমানকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেন। বিষয়টি নির্বাচনের সময়ই বেশ আলোচিত ছিল। কাজী শহীদ ইসলাম পাপলুর স্ত্রী কাজী সেলিনা ইসলামও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ দিকে এমপির সাবেক প্রতিনিধি ও রায়পুর পৌর আওয়ামীলীগের আহবায়ক কাজী জামশেদ কবির বাকি বিল্লাহ মানবপাচারের বিষয়টি অস্বীকার করে বলছেন, কুয়েত সরকার ও ব্যবসায়ীদের ষড়যন্ত্রের শিকার এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল। তার মুক্তির দাবী করেন তিনি।
অপরদিকে রায়পুর পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো. ইছমাইল হোসেন খোকন জানান, এমপি পাপুল সাহেব শুনেছি কুয়েতে গ্রেপ্তার হয়েছে। তবে তিনি লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আওয়ামীলীগের দলীয় এমপি নয়। এছাড়া আওয়ামীলীগ বা এর অঙ্গসংগঠনের কোন পদপদবী-সদস্যও নেই এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল। যদি তিনি মানবপাচার ও অর্থপাচার করে থাকেন তাহলে ওই দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার হওয়া উচিত। আর যদি এসব অপকর্মের সাথে জড়িত না হন, তাহলে তার মুক্তি পাওয়ার দাবীও রাখেন তিনি।
এ দিকে রায়পুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ জানান, সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল কোনদিন আওয়ামীলীগ করেনি এবং বর্তমানেও সে আওয়ামীলীগের কোন পদ পদবীতে নেই। জাতীয় নির্বাচনের সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আপেল প্রতিকে ভোট করে বিজয় হন। তখন আওয়ামীলীগের কোন প্রার্থী না থাকায় তাকে দলীয়ভাবে সমর্থন দেয়ায় তার পক্ষে কাজ করছেন বলে দাবী করেন তিনি।
তবে এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য কাজী সেলিনা ইসলামের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি রিসিভ করেনি। তবে মানবপাচার বা অর্থপাচারের বিষয়টি অস্বীকার করে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমপি কাজী সেলিনা ইসলামের দাবী বিশ্বজুড়ে  করোনা মহামারীর কারনে অন্যান্য দেশের মত কুয়েতেও তিন মাস ধরে লকডাউন চলছে। এ পরিস্থিতি অনেক অভিবাসী কর্মী বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের কেউ কেউ সরকারী দপ্তরে অভিযোগ করেছেন। এসব বিষয়ে কুয়েতের সরকারী দপ্তর ও সিআইডি তাকে আলোচনার জন্য ডেকে নিয়েছে। তাই কুয়েতের সরকারী কর্তৃপক্ষের কোন বিবৃতি, সিদ্ধান্ত বা তথ্য ছাড়া এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর কোন তথ্য বা সংবাদ প্রচার না করতে অনুরোধ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, বছরের শুরুতে কুয়েতের পুলিশ এমপি শহীদুল ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে বলে খবর প্রকাশ হয়। এরপর দেশি-বিদেশী বিভিন্ন গনমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদের পর এলাকায় শুরু হয়েছে তোলপাড়। এসব ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের দাবী জানিয়েছেন তখন দলীয় নেতাকর্মীরা। ওই দেশটির ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট সিআইডির অভিযানের মুখে কুয়েত ছেড়ে পালিয়ে দেশে চলে আসেন পাপুল। ১৪ ফেব্রুয়ারী রাতে আবার কুয়েত চলে যান। তার স্ত্রী সেলিনা ইসলামও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য। তারা দুজনই স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত।

Print Friendly, PDF & Email