ভারতকে চরম হুঁশিয়ারি চীনের

বিতর্কিত লাদাখ সীমান্তে সৈন্য-সামন্ত সমাবেশ ঘিরে প্রতিবেশি দুই পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই দেশ চীন এবং ভারতের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা চলছে। সীমান্ত বিবাদের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিল্পোন্নত দেশগুলোর সংগঠন জি-৭ এর অন্তর্ভুক্ত করার পদক্ষেপ নেয়ায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে বেইজিং৷ হুঁশিয়ারির সুরে চীন বলছে, ভারত আগুন নিয়ে খেলছে; যার ফল তাদের ভুগতে হবে।

দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস এক প্রতিবেদনে বলছে, ভারত, রাশিয়া এবং অন্য কয়েকটি দেশকে জি-৭ এ অন্তর্ভুক্ত করে এই গোষ্ঠীকে জি-১০ বা জি-১১ হিসেবে তুলে ধরার স্বপ্ন দেখছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উন্নত দেশগুলোর লাভ হলেও ভারতের ক্ষতি হবে। ভারত-চীন সীমান্ত উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে বেইজিংকে আরও চাপে রাখতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন বলেও দাবি করেছে গ্লোবাল টাইমস।

চীন সরকারের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত এই সংবাদমাধ্যম বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতিতে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কারণ ভারতীয় অর্থনীতি বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম।

গ্লোবাল টাইমস ভারতের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতালোভী বলেও কটাক্ষ করেছে। পত্রিকাটি বলছে, এ কারণেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের চক্রান্ত ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার বুঝতে পারছে না। এছাড়া সীমান্ত বিবাদ নিয়ে দর কষাকষিতে নিজেদের আরও শক্তিশালী প্রমাণ করতেই আমেরিকার মতো দেশের সাহায্য ভারত নিতে চাইছে। ভারতে বেশ কিছু সংগঠন চীনের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ালেও বিজেপি সরকার কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এশিয়ায় চীনের প্রভাব যত বাড়ছে, দুনিয়াজুড়ে ততই দেশটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করে গ্লোবাল টাইমস বলছে, চীনের প্রভাব কমাতেই জি-৭ সম্প্রসারিত করার কূটকৌশল হাতে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

চীনের সরকারি এই সংবাদমাধ্যমের অভিযোগ, বেইজিং ক্রমাগতভাবে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলেও নয়াদিল্লি তাদের শত্রু মনে করে। এ কারণে দু’দেশের মধ্যে থেমে থেমেই উত্তেজনা তৈরি হয়। বন্ধুত্বের বদলে চীনের সঙ্গে শত্রুতা করলে তার বড় ধরনের খেসারত ভারতকে দিতে হবে বলে হুঁশিয়ার করা হয়েছে।

আমেরিকার সঙ্গে চীনের সংঘাত চূড়ান্ত রূপ নিয়ে ঠান্ডা যুদ্ধের দিকে গড়ালে ভারত যদি আমেরিকার পক্ষ নেয়, তাহলে তার ফল খারাপ হবে বলে কিছুদিন আগেও সতর্ক করে দিয়েছিল বেইজিং। দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীনের সরকারি এই সংবাদমাধ্যম।

Print Friendly, PDF & Email