লক্ষ্মীপুরে আহত সেই বৃদ্ধার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি  :

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আম কুড়ানো নিয়ে দু’শিশুর ঝগড়ায় দুই পরিবারের সংঘর্ষে নুরজাহান বেগম (৫৫) নামের এক বৃদ্ধা চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকালে জেলা সদর হাসপাতালে মারা যান। নিহত বৃদ্ধা উপজেলার বামনী ইউপির কবিরহাট এলাকা সংলগ্ন ডালি বাড়ীর মৃত লেদা মিয়া স্ত্রী।

এঘটনায় সন্ধায় বৃদ্ধার মৃত দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত বৃদ্ধার মেয়ে মায়া বেগম রায়পুর থানায় একই এলাকার অভিযুক্ত এমরান ও তার পিতা আবুল কালামসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানান, ২৬ মে দুপুরে আম কুড়ানো নিয়ে এমরানে ভাতিজার সাথে নিহত বৃদ্ধা নুরজাহানের শিশু নাতিন পুনমের ঝগড়া হয়। এতে বাধা দিতে গেলে এমরানসহ তার পরিবার বেদম মারধর করে নিহত বৃদ্ধা ও তার শিশু নাতিনকে। তারা আহত উভয়ই ঘটনার রাতে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে সদর হাসপাতালে প্রেরন করে কর্তব্যরত ডাক্তার। গত সাতদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার দুপুরে সদর হাসপাতালে মারা যান ওই বৃদ্ধা।

মামলার বাদী নিহত বৃদ্ধার মেয়ে মায়া বেগম (৩২) বলেন, একটি আম পাড়া নিয়ে আমার মেয়ে ও মা কে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করে এমরান ও তার পিতা আবুল কালামসহ তাদের পরিবার। এসমাজের মানুষের কাছে বিচার পাইনি। অবশেষে হাসপাতালেই আমার মা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলো। এমরানসহ তার পরিবারের ৪ জনকে আসামী করে থানায় হত্যা মামলা করেছি। আমি ঘাতকদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টন্তমুলক বিচার চাই।

এঘটনায় অভিযুক্ত এমরানসহ তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করলে তারা পলাতক থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

বামনী ইউপি চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, একটা আম নিয়ে দুই শিশুর ঝগড়ায় বৃদ্ধার মৃত্যু দুঃখজনক। সঠিক তদন্ত করে বিচার দাবি জানাই।

রায়পুর থানার ওসি তোতা মিয়া জানান, আম নিয়ে ঝগড়ায় আহত বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বৃদ্ধার মৃত দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Print Friendly, PDF & Email