লক্ষ্মীপুরে আম পাড়া নিয়ে সংঘর্ষে নারীসহ আহত ১০

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি : 

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারীসহ ১০ জন মারাত্নক জখম হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিন নারীসহ ৭ জনকে রায়পুর ও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বিকেলে উপজেলার চরআবাবিল ইউপির উদমারা গ্রামের মাঝি বাড়ীতে। এঘটনায় বিল্লাল, বাহার ও হেলেনা বেগমসহ ৫ জনের নামে থানায় মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে ক্ষতিগ্রস্ত দেলোয়ার হোসেন জানান।

হাসপাতালে ভর্তি আহতরা হলেন, ফিরোজ আলম, ফারুখ হোসেন, সুরুভি আক্তার, মরিয়ম, বিল্লাল, বাহার ও হেলেনা বেগমসহ ১০ জন।

গ্রামবাসী ও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রায় এক বছর আগে ইসমাইল হোসেন তার বড় ভাই বাহারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পরিবার নিয়ে শশুর বাড়ীতে বসবাস করছেন। এতে করে তার সম্পত্তির অংশের বাগানের বিভিন্ন ফল (আম, লিচু, কাঁঠাল,মন্ডল ও নারিকেলসহ অন্যান্ন ফল) নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাদের এলাকার ফিরোজের কাছে এক বছরের জন্য লিজ দেয় ইসমাইল । যখনি ফিরোজ তার লিজকৃত বাগানের ফল পাড়তে যান তখনি বাহার মাঝির নের্তৃত্বে তার পরিবার বাধাসহ হামলার চেষ্টা চালায়। থানায় দুইবার জিডিও করা হয়েছে। এবিষয়টি মিমাংসায় কয়েকবার রায়পুরের হায়দরগন্জ ফাঁড়ি থানায় ওসির নের্তৃত্বে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক বসলেও বাহারসহ তার পরিবার মেনে যায় এবং পরে বাড়ী গিয়ে আবার সে উল্টে যায়। এ বিরোধ চলা অবস্থায় আজ বুধবার বিকেলে ফিরোজেরসহ তার পরিবার লিজকৃত ওই বাগান থেকে আম পাড়তে গেলে বাহার মাঝি, তার ভাই বিল্লাল মাঝি, স্ত্রী হেলেনা ও মেয়ে শিউলি আক্তার বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দেশীয় অস্র (দা, ছেনি ও টেটা) নিয়ে সংঘর্ষ বেঁধে গিয়ে নারীসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের ৭ জনকে উদ্ধার করে সরকারি হাসপাতালে পাঠান।

এঘটনায় রায়পুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ফিরোজের ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেন ও আহত বিল্লাল মাঝির ভাতিজা সোহেল পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।

চরআবাবিল ইউপির ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার শাহ আলম হাওলাদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বাহার ও বিল্লাল মাঝির পরিবার উশৃংল। তারা শালিশ বৈঠক মানেনা। আজকের ঘটনায় তারাই অপরাধী। কঠিন বিচার হতে হবে।

রায়পুর সরকারি হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার তাহমিনা বিনতে হুমায়ুন জানান, উভয় পক্ষই কুপাঘাতে মাথা, হাত, পা ও পিঠে মারাত্নক জখম হয়েছেন। ফিরোজ, ফারুখ, সুরুভি ও মরিয়মকে রায়পুর হাসপাতালে ভর্তি দিয়ে বিল্লাল, বাহার ও হেলেনাকে সদর হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।

রায়পুর থানার ওসি তোতা মিয়া জানান, এক পক্ষ থানায় মামলা প্রস্ততি নিয়েছেন। ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email