করোনার মধ্যেই অনলাইনে বিয়ে

জয়পুরহাট: করোনার কারণে পাক্স্তিানের প্রেমিকের সঙ্গে অনলাইনে বিয়ে করছেন জয়পুরহাটের মুরসালিনা সাবরিনা। ব্যাংক কর্মকর্তা মোজাফ্ফর রহমানের মেয়ে সাবরিনা আমেরিকান অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইউনিভার্সিটি অফ দ্য পিপল’-এ ২০১৮ সাল থেকে পড়ছেন।

সেই সূত্রেই অনলাইনে পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতানের ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ উমেরের সঙ্গে প্রেম হয়। পারিবারিকভাবে এই মার্চ মাসে বিয়ের সিদ্ধান্ত হলেও বাধা হয়ে আসে করোনা।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকাল ৫টায় জয়পুরহাট পৌর শহরের কাশিয়াবাড়ি এলাকার কণের বাড়িতে অনলাইনে বিয়ে পড়ানো হয়। অনলাইনে বিয়ে পড়ান মওলানা মোস্তাফিুজর রহমান। এই সময় অনলাইনে সাবরিনার কবুল পড়া শোনানো হয় বর উমের এবং তার বাবা বিলাল অহম্মেদকে। একইভাবে অনলাইনে ইঞ্জিনিয়ার উমের তার প্রেমিকা সাবরিনাকে স্ত্রী হিসেবে কবুল করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টদের নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ২০১৯ সালের দিকে পরিচয় ঘটে সাবরিনা ও উমেরের। প্রেমের সম্পর্ক জানাজানি হলে, উভয় পরিবারের অভিভাবকরা তাদের বিবাহ সম্পন্নের সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক উমের এবং তার পরিবার বাংলাদেশে আসার জন্য ২০২০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ভিসার জন্য আবেদন করেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জয়পুরহাটে সাবরিনা এবং তার পরিবারের খোঁজখবর নেয় স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থা। ভিসা নিয়ে মার্চ মাসেই উমেরের পরিবার বাংলাদেশে এসে বিয়ে সম্পন্ন করার কথা ছিল। তবে করোনার কারণে বিয়ে আটকে গিয়েছিল। পাকিস্তানের বাহরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামাবাদ ক্যাম্পাস থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছেন উমের। তার বাবা বিলাল আহম্মেদ একজন ব্যবসায়ী।

সাবরিনার বাবা মোজাফ্ফর রহমান বলেন, ‘মেয়ের সঙ্গে পাকিস্তানি ছেলের প্রেমের সম্পর্ক প্রথমে মেনে নিতে চাইনি। কিন্তু পরে তাদের খোঁজখবর নিয়ে ভালো লেগেছে। তাদের পরিবার খুবই ভাল। তাই মেয়ের বিয়ে দিতে সম্মত হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই বিয়ে সম্পন্ন করেছি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই জামাই এবং তার পরিবার দেশে এসে অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মেয়েকে নিয়ে যাবেন।’

Print Friendly, PDF & Email