লক্ষ্মীপুরে চলছে রোদ বৃষ্টির খেলা

বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি হওয়ায় প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে মেঘনা উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর। ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ ক্রমশ উপকূলের দিকেই এগিয়ে আসছে।

ইতোমধ্যে এ জেলায় ১০ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটি মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকাল থেকে থেমে থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও হালকা বাতাস হচ্ছে। মেঘনা নদীর পানির উচ্চতা আগের চেয়ে কয়েক ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বুধবার (২০ মে) সকাল থেকে কখনো রোদ আবার কখনো বৃষ্টি হচ্ছে সেই সাথে হালকা বাতাস বয়ে চলেছে।

এদিকে আম্ফান থেকে রক্ষা পেতে জেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২০০টি আশ্রয়ণ কেন্দ্র। ৬৬টি মেডিকেল টিম, সিপিবির ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক দল, শুকনো খাবার ও ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সব কিছু। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়কালীন ও পরবর্তী সঙ্কট দূর করতে হটলাইন চালু করা হয়েছে। দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ঠিক রাখার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। করোনার এই ক্রান্তিলগ্নে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে আশ্রয়ণ কেন্দ্রে মানুষের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া গবাদি পশুর জন্য আলাদাভাবে আশ্রয় ও খাবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তবে ঝড়ের লক্ষণ এখনও সেভাবে প্রকাশ না পাওয়ায় উপকূলীয় মানুষজন আশ্রয়ণ কেন্দ্রে যেতে উৎসাহী হচ্ছেন না। প্রশাসন তাদেরকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মোমিন বলেন, ‘নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই লোকদের আশ্রয়ণ কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে চরাঞ্চলের কিছু মানুষ পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আনা সম্ভব হয়নি। আশ্রয়ণ কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্তরা কাজ করছেন।’

Print Friendly, PDF & Email