লক্ষ্মীপুরে আগ্রহ নেই আশ্রয়ণ কেন্দ্রে : মাছ শিকারে ব্যস্ত জেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ অতি প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে সুপার সাইক্লোনে পরিণত হয়েছে। যেকোন সময় আঘাত হানতে পারে লক্ষ্মীপুরসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করেছে জেলা প্রশাসন। তবে সবকিছুই ভেস্তে যাচ্ছে জেলেদের একঘোয়ামির ফলে। বারবার বলেও স্থানীয় প্রশাসন নদী থেকে আশ্রয়ণ কেন্দ্রে আনতে পারছে না তাদের। নিরাপদ স্থানে নেওয়া যাচ্ছে না নদী তীরবর্তী মানুষদেরও।
কীসের ঘূর্ণিঝড় আর আম্ফান, কত ঝড় আইছে-গেছে। ছিলাম এই নদীতেই। এখানে থাকলে কয়েকটা মাছ পামু, সন্তানদের নিয়ে ভাত খাইতে পারমু। মাছ ধরা বাদ দিয়ে ডাঙায় গেলে কেউ খাওন দিবো না। কথাগুলো প্রতিবেদককে বলেছেন জেলার কমলনগরের মতিরহাট এলাকার একাধিক জেলে। তবে কেউ কেই বলছেন, কয়েকটা মাছ পেলেই নৌকা নিয়ে তীরে চলে আসবেন। বিক্রি করে চলে যাবেন পরিবারের কাছে।
হায়দার আলী নামে এক বৃদ্ধ প্রতিবেদককে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের কথা শুনার পর থেকেই আতঙ্কে রয়েছেন। ঘর-বাড়ি, পরিবারের সদস্য ও হাঁস-মুরগি এবং গরু নিয়ে খুবই চিন্তিত তিনি। কারন ঝড়ে সব ভেঙ্গে যায়, হারিয়ে যায় গৃহপালিত পশু-পাখিগুলো। আবার আশ্রয়ণ কেন্দ্র কিছুটা দুরে হওয়ায় সবকিছু নিয়ে যাওয়াও সম্ভব নয়। এজন্যই তিনি নির্দেশনা পাওয়ার পরও নিরাপদ স্থানে যাননি। আশ্রয়ণ কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব কতটুকু মানা হবে, সেটি নিয়ে ভয় রয়েছে এই বৃদ্ধার। তবে কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন অতি জলশ^াসে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার। ফলে ফসলের জমিসহ ঘর-বাড়ি পানিতে তলিয়ে যাবে। ভেসে যেতে পারে গরু-ছাগল।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, জেলে ও নদী তীরবর্তী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে কাজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়েছে, প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়ণ কেন্দ্র, শুকনো খাবার, মেডিকেল টিমসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু। তবে নির্দেশনা উপেক্ষা করে কেউ নদীতে থাকলে, তাদের দ্রুত তীরে সরিয়ে আনার জন্য কোস্টগার্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ মোকাবেলায় জেলায় ২০০ টি আশ্রয়ণ কেন্দ্র, ৬৬ টি মেডেকেল টিম, সিপিবি ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শুকনো খাবার, স্যানেটারি ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ঠিক রাখার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email