লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে রক্ষা পেল গ্রামবাসী, হামলাকারী লিটনের ক্ষোভ!

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় কবির হোসেন লিটন (৪৮) নামে এক কথিত আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা ও সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনতাই চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে সদর উপজেলার চররুহিতা গ্রামের কবিরাজ বাড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, অভিযুক্ত লিটন উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় একটি পাঞ্জেগানা মসজিদের জমি দখলে নিতে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী হামলা চালায়। কিন্তু সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে গ্রামবাসী সংঘর্ষ ছাড়াই সন্ত্রাসী হামলা পণ্ড করে দেয়। এতে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তবে সন্ত্রাসীদের নেতৃত্বে থাকা কবির হোসেন লিটন নিজেকে সদর থানা আওয়ামী লীগের নেতা আবুল খায়েরের অনুসারী বলে দাবি করে, গ্রামের লোকজনকে হুমকি-ধমকি দেন। এসময় ঘটনাটির ভিডিও ধারন করায় এক সাংবাদিকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায় লিটন। কিন্তু গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে সন্ত্রাসীদের এই নেতা পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।

চররুহিতা ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মামুন পাটওয়ারী বলেন, কবির হোসেন লিটনকে সাংবাদিকের ওপর চড়াও হতে দেখে আমরা তাকে থামানোর চেষ্টা করি।

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা আবুল খায়ের বলেন, কবির হোসেন লিটন আমার আত্মীয়। সে সাংবাদিকদের সঙ্গে যে আচরণ করেছে বলে শুনেছি, তা ঠিক হয়নি। এজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে সদর উপজেলার চররুহিতা গ্রামের কবিরাজ বাড়িতে একটি পাঞ্জেগানা মসজিদের জমিকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হন। এ নিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করা হয়।

এতে আহতরা হলেন- নুর নাহার বেগম (৪৫), মিনোয়ারা বেগম (৪০), রত্না বেগম (৪০), রহিমা খাতুন (৬০), রায়হান (২৩), ইউনুস (১৮)। আহতরা লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

এ ঘটনার রেশ ধরেই কথিত আওয়ামী লীগ নেতা কবির হোসেন লিটনের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার চেষ্টা চালায় একটি পক্ষ।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু নাছের জানান, পাঞ্জেগানা মসজিদকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও হুমকি-ধমকির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ হয়েছে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

 

শীর্ষ সংবাদ/আপ্র

Print Friendly, PDF & Email