আফগানিস্তানের থেকেও পিছিয়ে পড়ায় হতাশ মুমিনুল

দুই দলের মধ্যে অভিজ্ঞতায় পার্থক্য আকাশ-পাতাল। বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা পেয়েছে সেই ২০০০ সালে, আফগানিস্তান তারও ১৭ বছর পর (২০১৭ সালে)। অথচ আইসিসির সর্বশেষ প্রকাশিত র্যাংকিংয়ে দেখা যাচ্ছে, এই আফগানদের থেকেও পিছিয়ে টাইগাররা।

মাত্র দুই বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেট খেলা আফগানিস্তান রেটিং বিবেচনায় পেছনে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশকে। বর্তমানে আফগানদের রেটিং ৫৭ এবং বাংলাদেশের ৫৫।

তবে র‍্যাংকিংয়ে ঢোকার জন্য পর্যাপ্ত ম্যাচ না খেলায় এখনও তালিকায় আসেনি আফগানিস্তানের নাম। ২০১৮ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর এখনও পর্যন্ত মাত্র ৪টি ম্যাচ খেলেছে আফগানিস্তান। এর মধ্যে জিতেছে দুইটিতে। একটি আবার বাংলাদেশের বিপক্ষেই। এ দুই জয়ের কল্যাণেই তারা পেয়ে গেছে ৫৭ রেটিং পয়েন্ট।

অন্যদিকে প্রায় ২০ বছর ধরে টেস্ট খেলা বাংলাদেশের বর্তমান রেটিং পয়েন্ট ৫৫, অবস্থান নবম। সবশেষ ফেব্রুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট জিতেও র‍্যাংকিং বা রেটিংয়ে কোন উন্নতি হয়নি বাংলাদেশের। উল্টো আফগানরা রেটিং পয়েন্টে টেক্কা দিল বাংলাদেশকে। টাইগাররা হারিয়েছে ৫টি মূল্যবান রেটিং।

এমন খবর শুনে স্বভাবতই বেশ হতাশ বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘এটা সত্যিই হতাশাজনক খবর। আমরা ওদের অনেক আগে থেকে টেস্ট খেলছি। তবে এখন ওদের চেয়ে আমাদের মাঠের পারফরম্যান্সে কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে টেস্টে আমাদের পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। আমরা চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পারিনি। ভারত, পাকিস্তানের কাছেও হেরেছি। এসবের প্রভাব পড়েছে রেটিংয়ে। সেটা যাই হোক, এমন খবর ভীষণ হতাশাজনক।’

তবে যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। অতীত নয়, ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে চান মুমিনুল। টাইগার দলপতি বলেন, ‘এখন তো এগুলো ভেবে লাভ নেই। আগের চেয়ে এই ফরম্যাটে আমাদের সুযোগ সুবিধা বেড়েছে। আশা করি ক্রিকেটাররা সামনে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। এরইমধ্যে কোচ কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। আমরাও একদিন সীমিত ওভারের ক্রিকেটের মতো এই ফরম্যাটে শক্তিশালী দল হয়ে উঠবো।’

মুমিনুল যোগ করেন, ‘ক্রিকেটাররা আরো দায়িত্বশীল হলে এই ফরম্যাটে আমাদের সুদিন ফিরবে। আমরা যদি ভবিষ্যতে বড় দলগুলোকে হারাতে পারি, তাহলে আফগানিস্তানের পাশাপাশি অন্য দলগুলোকেও পেছনে ফেলতে পারবো।’

Print Friendly, PDF & Email