দূষিত বায়ুকণায় পাওয়া গেল ‘করোনা ভাইরাস’!

ইতালির বিজ্ঞানীরা এবার দূষিত বায়ুকণায় করোনা ভাইরাসের সন্ধান পেয়েছেন। এখন তারা তদন্ত করে দেখছেন বাতাসের মাধ্যমে এই জীবাণু কতোটা দীর্ঘ দূরত্বে ছড়াতে পারে এবং এর মাধ্যমে কভিড–১৯ এ সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে কি-না। ব্রিটিশ গণমাধ্যম মেট্রোর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।অবশ্য গবেষণার কাজটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে এবং এটি এখনো জানা যায়নি যে ভাইরাসটি দূষণকারী কণাগুলিতে এতটা পর্যাপ্ত পরিমাণে টিকে থাকতে পারে কিনা, যা কভিড-১৯ রোগের কারণ হতে পারে।

ইতালীয় বিজ্ঞানীরা বার্গামো প্রদেশের একটি নগর ও একটি শিল্প সাইটে বায়ু দূষণের নমুনা সংগ্রহের জন্য স্ট্যান্ডার্ড কৌশল ব্যবহার করেছিলেন এবং একাধিক নমুনায় কভিড -১৯ এর সাথে অত্যন্ত নির্দিষ্ট একটি জিন চিহ্নিত করেছিলেন। একটি স্বতন্ত্র পরীক্ষাগারে ব্লাইন্ড টেস্টিংয়ের মাধ্যমে সনাক্তকরণটি নিশ্চিত করা হয়েছিল।এই কাজের নেতৃত্বদানকারী ইতালির বোলোগনা বিশ্ববিদ্যালয়ের লিওনার্দো শেঠি বলেছিলেন যে, বায়ু দূষণের মাধ্যমে ভাইরাসটি বায়ুতে আরও ব্যাপকভাবে বহন করতে পারে কিনা তা তদন্ত করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। “আমি একজন বিজ্ঞানী এবং যখন আমি জানি না, তখন আমি চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম,” তিনি বলেন। ‘যদি আমরা জানি, আমরা একটি সমাধান খুঁজে পেতে পারি। তবে আমরা যদি না জানি তবে আমরা কেবল পরিণতিগুলোই ভোগ করতে থাকবো।’অন্য দুটি গবেষণা দল ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, বায়ু দূষণের কণাগুলি করোনা ভাইরাসকে বাতাসে আরও বিস্তারে সহায়তা করতে পারে। মি. সেট্টির টিমের একটি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ থেকে জানা গেছে যে, লকডাউন আরোপের আগে উত্তর ইতালিতে সংক্রমণের উচ্চ হারের সঙ্গে বাতাসের উচ্চতর স্তরের দূষিত কণার সম্পর্ক পাওয়া যায়। এটি অন্য প্রাথমিক বিশ্লেষণ দ্বারাও সমর্থিত একটি ধারণা। অঞ্চলটি ইউরোপের সবথেকে দূষিত শহরগুলোর অন্যতম।সেট্টির টিমের উল্লিখিত কোনও গবেষণাই এখন পর্যন্ত পিয়ার-রিভিউ করা হয়নি এবং  স্বাধীন বিজ্ঞানীদের দ্বারা তা অনুমোদিত হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা তাদের প্রস্তাবটিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন, সে কারণে অধিকতর তদন্তে সম্মত হয়েছেন। পূর্ববর্তী গবেষণায় দেখা গেছে যে, বায়ু দূষণের কণাগুলো জীবাণু বৃদ্ধি করে এবং সম্ভবত দূষণের কারণে ভাইরাসগুলো বার্ড ফ্লু, হাম এবং পা-ও মুখের রোগকে অনেক দূরত্বে নিয়ে যায়।বায়ু দূষণের কণাগুলির সম্ভাব্য ভূমিকাটি করোনভাইরাসকে কিভাবে অন্যের দেহে সংক্রমিত হতে পারে, ব্যাপকভিত্তিতে সেই প্রশ্নের সাথে যুক্ত। সংক্রমিত মানুষের কাশি এবং হাঁচি থেকে ভাইরাসজনিত বড় ফোঁটাগুলি (ড্রপলেট) এক বা দুই মিটারের মধ্যে মাটিতে পড়ে যায়। তবে অনেক ছোট কোনো ফোঁটা বা কণা, যা ৫ মাইক্রনের থেকেও কম ব্যাসযুক্ত, তা বাতাসে কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘন্টা এবং বাতাসে তা দীর্ঘ সময়ে ভেসে থাকতে পারে এবং তা আরও দূরে ভ্রমণ করতে পারে।তবে এখন পর্যন্ত বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত নন যে এই ক্ষুদ্র কণাগুলো বা বায়ুবাহিত ফোঁটাগুলো দূরে উড়ে গিয়ে কারো দেহে করোনভাইরাসের সংক্রমণ ঘটাতে পারে কিনা। যদিও তারা জানেন যে, ২০০৩ সালে সার্স করোনা ভাইরাসটি বায়ুতে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং নতুন ভাইরাসটি ছোট একটি কণার মধ্যেও ঘন্টার পর ঘন্টা বাতাসে কার্যকর থাকতে পারে।তবে গবেষকরা বলছেন, সম্ভাব্য বায়ুবাহিত সংক্রমণের গুরুত্ব আছে। কারণ দূষণের কণাগুলি বাতাসে উড়তে ও বিস্তার ঘটানোর জন্য সম্ভাবনাময়। সেজন্য সাক্ষ্য–প্রমাণ ছাড়া এটি অবশ্যই উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।পূর্ববর্তী আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, মহামারির আগের উচ্চ বায়ুদূষণের সঙ্গে কভিড -১৯ এ বর্ধিত মৃত্যুর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্দেশ করেছে। দীর্ঘমেয়াদে নোংরা বাতাসের প্রভাবে ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে। যা সেইসব ব্যক্তিদের কভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

Print Friendly, PDF & Email