ভাইরাস নিয়ে নির্মিত যেই ছবিগুলো দেখবেন না

ঢাকা: করোনা ভাইরাসের সঙ্গে লড়ছে গোটা বিশ্ব। চিন থেকে শুরু হলেও আঁচ এসে পড়েছে আমাদের দেশেও। ই সময়ে আতঙ্ক নয় করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন হতে আহ্বান জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে মহামারি এসব ভাইরাস নিয়ে অনেক আগে থেকেই নির্মিত হয়ে আসছে চলচ্চিত্র।  কাল্পনিক, কখনও বা বাস্তবে ঘটে যাওয়া ঘটনা থেকেই সেইসব চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।  মহামারি ভাইরাস নিয়ে নির্মিত ওইসব ছবিগুলো অনলাইন প্লাটফর্মে  এই সময়ে বেশ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। খুঁজে খুঁজে সবাই ওইসব ছবিগুলেই দেখছেন। এতে করে মানুষের মধ্যে আরও আতঙ্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানাচ্ছেন মনোবিজ্ঞানীরা

মহামারি ও ভাইরাস নিয়ে যে ছবিগুলো দেখার চেয়ে না দেখতেই উৎসাহিত করেছেন মনোবিজ্ঞানীরা সে ছবিগুলোর একটা তালিকা দেয়া হলো–

কন্টাজিয়ন

ছবিটি মুক্তি পায় ২০১১ সালে মুক্তি  পাওয়া ছবিটি এখন সবার মুখে মুখে। কারণ করোনাভাইরাস নিয়ে এই ছবির।  তখন বক্স অফিসে ছবিটি  সাফল্য পায়নি। সাফল্য পাচ্ছে এখন। ছবিটি নির্মানের ৯ বছর  পর  চিন থেকে দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস সংক্রমণ এই ছবিকে নিয়ে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে। কারণ, কন্টেজিয়নের গল্প আর বাস্তবের করোনাভাইরাস মহামারীর অবিশ্বাস্য মিল।

স্টিভেন সোডারবার্গ পরিচালিত ২০১১ সালের সিনেমা ‘কন্টেজিয়ন’ (অর্থ: রোগ সংক্রমণ) ছবিটি শুরু হয় কালো পর্দা থেকে। কে যেন কাশছে খুকখুক করে। তারপরেই অভিনেত্রী গুইনেথ প্যাল্ট্রোকে দেখা যায়। মোবাইলে তার গত রাতের প্রেমিকের সাথে কথা বলছে সে। কাজের জন্য হংকংয়ে ছিল, সেখানেই প্রেমিকের সঙ্গে ‘ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড’ করেছে সে। আমেরিকায় এসে সে মারা যায় তারপর। ততক্ষণে রোগ ছড়িয়ে গেছে ছেলের ভিতর। স্বামী দিশেহারা। এভাবেই শহর থেকে শহরে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস। মাস্ক,হ্যান্ড স্যানিটাইজার সবাই ব্যবহার করছে। কোলাকুলি,হ্যান্ডশেক বন্ধ। যার সব মিলই আছে করোনাভাইরাসের সঙ্গে। এখন যা চলছে ন বছর আগেই যেনো সেভাবেই চিত্রনাট্য লিখেছেন স্কট জি বার্নস।

প্যানডেমিক

এক জন ডাক্তার ও তার দল মহামারী থেকে যেসব মানুষ বেঁচে গেছেন, লস এঞ্জেলসে এসে তাঁদের খুঁজে বের করছেন এবং তাঁদের নিয়ে নতুন ইতিহাস তৈরি করছেন। এমন কাহিনি উঠে এসেছে ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘প্যানডেমিক’ ছবিতে। ছবির পরিচালক জন সুটস। চিত্রনাট্যকার ডাস্টিন টি বেনসন। এই ছবিটি জনমানসে বিপুল ভাবে গৃহীত হয়েছিল।

টোয়েন্টি এইট ডেজ লেটার

২০০২ সালে মুক্তি পায় ছবিটি। ছবিতে দেখা যায়, ব্রিটিশ ‘অ্যানিম্যাল লিবারেশন’ সংস্থার একদল আন্দোলনকারী একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাগারের ভেতর ঢুকে পরীক্ষারত কয়েকটি শিম্পাঞ্জিকে মুক্ত করে দেয়। শিম্পাঞ্জিগুলোর ওপর একটি বিশেষ কেমিক্যাল পরীক্ষা করা হচ্ছিল, যা প্রচণ্ড রাগের উদ্রেক করে এবং এটি বহনকারী যে কোনও প্রাণী যদি কাউকে কামড়ে দেয়, তাহলে সেই ব্যক্তিও আক্রান্ত হয়ে যায়। এমন অবস্থায় চার জন শুরু করে বেঁচে থাকার লড়াই। সমস্ত ব্রিটেনে একটা ভয়াবহ প্রাণঘাতী ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। ২৮ দিন পর শুধুমাত্র হাতেগোনা কিছু মানুষ বেঁচে থাকে। এ ছবির পরিচালক ড্যানি বয়েল।

আউটব্রেক

১৯৯৫ সালে জার্মান পরিচালক উলফগ্যাং পিটারসনের ‘আউটব্রেক’ ছবিটি মুক্তি পায়। ডাস্টিন হফম্যান, মর্গান ফ্রিম্যান, রেনে রুশো, কিউবা গুডিং প্রমুখ অভিনীত এ ছবি।  আফ্রিকার দেশ জায়ারে অনেকটা ইবোলার মতো প্রাণঘাতী কল্পিত এক ভাইরাস ‘মোতাবা’ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সেই ভাইরাস আমেরিকার এক শহরে সংক্রমিত হয়। পরবর্তী কালে বাস্তবের ইবোলা আক্রমণ অনেকটাই মিলে যায় সিনেমার এই মোতাবার সঙ্গে।

আই অ্যাম লিজেন্ড

হলিউড মহাতারকা উইল স্মিথ অভিনীত ২০০৭ সালের সিনেমা ‘আই অ্যাম লিজেন্ড’। ছবিতে ভাইরোলজিস্টের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সেখানে দেখানো হয় বেশ কয়েক বছর আগে মহামারীতে আক্রান্ত নিউ ইয়র্কের বেশিরভাগ মানুষ মারা যায়, বাকিরা পরিণত হয় দানবে জোম্বি রাক্ষসে। এদিকে ফাঁকা রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে হরিণ ও সিংহ। একমাত্র বেঁচে থাকা মানুষ স্মিথ এর থেকে মুক্তিপথ খুঁজতে থাকেন। তাঁর একমাত্র সঙ্গী তার পোষা অ্যালসেশিয়ান কুকুর। স্পেশ্যাল এফেক্টের সাহায্যে যেভাবে ফাঁকা নিউইয়র্ক শহর দেখানো হয়েছে তা প্রশংসনীয়।

রেসিডেন্ট ইভিল

মিলা জোভোভিচ অভিনীত এই সিনেমাতে দেখানো হয় একটি বিশেষ চক্রের কারণে জীবাণু অস্ত্রের মাধ্যমে কীভাবে জোম্বি হয়ে পড়ছে গোটা শহর। এই ভাইরাস পরবর্তী কালে খাদ্য সংকটের কারণ হয় ও অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে সেটাও দেখানো হয় এই ছবিতে। ছবিটি এত সফল হয় যে সিরিজও বানানো হয় ছবিটির।২০০৭ সালে ‘রেসিডেন্ট ইভিল: এক্সটিংশন’, ২০১০ সালে ‘রেসিডেন্ট ইভিল: আফটার লাইফ’, ২০১২ সালে ‘রেসিডেন্ট ইভিল: রিট্রিবিউশন’ এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালে ‘রেসিডেন্ট ইভিল: দ্য ফাইনাল চ্যাপ্টার’ মুক্তি পায়।

ক্যারিয়ারস

২০০৯ সালের ছবি ‘ক্যারিয়ারস’-এ দেখানো হয় চার বন্ধু মারাত্মক ভাইরাস সংক্রমণের হাত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। শেষে এক পর্যায়ে তারা জানতে পারছে, আসলে তারা নিজেরাই অন্য ভাইরাসের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর। ভাইরাস শরীরে নয়, মনে, সেটা নিজেরা অবহিত হয় তাঁরা। এ ছবি বিজ্ঞানের চেয়ে বেশি কিছু। এ ছবি দর্শনের ছবি, ভবিতব্যের ছবি।

Print Friendly, PDF & Email