সাবেক স্ত্রীকে খুন, স্বামীর দাবি করোনায় মৃত্যুশয্যাতেই ছিল!

করোনায় কাঁপছে পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কোভিড-১৯ এ এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় সবচেয়ে উপরে রয়েছে এই দেশটি। আর এমন দুঃসময়ের সুযোগ নিয়েছেন দেশটির ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ডেভিড অ্যান্থনি নামের এক বাসিন্দা!

করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন দাবি করে সাবেক স্ত্রীকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। হত্যার পর লাশও গুম করে ফেলেছেন ডেভিড।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিররের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের জুপিটার অঞ্চলের বাসিন্দা ডেভিড অ্যান্থনির বিরুদ্ধে তার সাবেক স্ত্রী গ্রেচেনকে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তারা দুজন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আলাদা হযে যান। অপহরণের পর ৫১ বছর বয়সী গ্রেচেনের ফোন থেকে কিছু সন্দেহজনক মেসেজ পান তার বন্ধুরা। মেসেজে বলা হয়, গ্রেচেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ। এরপর তার বন্ধুরা পুলিশকে এই তথ্য জানান।

এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঞ্চল থেকে গত ৩১ মার্চ অ্যান্থনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডেভিড পুলিশের কাছে দাবি করেন, তার স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যাতেই ছিল।

তবে গ্রেপ্তারের ১০ দিন পর পুলিশ জানায়, গ্রেচেনকে খুন করা হয়েছে আর এ জন্য ডেভিড অ্যান্থনিই দায়ী। গ্রেচেনকে করোনার টেস্ট করানো হয়নি। তিনি করোনা আক্রান্তও ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে গ্রেচেনের মরদেহের এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, তারা গ্রেচেনের বাড়ি থেকে একদিন ভয়ানক চিৎকার শুনতে পান। সেই সঙ্গে এক নারী কণ্ঠ বলতে থাকেন, ‘নো! নো, ইট হার্টস।’

এই ঘটনায় জুপিটার পুলিশ বৃহস্পতিবার ফেসবুকে একটি বিবৃতি পোস্ট করেছে। এতে জানানো হয়, এই ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি হচ্ছে। আরও প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, অ্যান্থনি ওই নারীর নিখোঁজ হওয়া ও হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী।

Print Friendly, PDF & Email