বাংলাদেশে ক্রমেই বিপদ বাড়ছে

বাংলাদেশে এখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ৮ মার্চ যখন করোনা আক্রান্ত প্রথম শনাক্ত হয়, তখন তা ছিলো এক অঙ্কের কোটায়। বেশ কয়েকদিন এক অঙ্কের কোটায় থাকার সময় আমরা আশান্বিত হয়েছি, মনে করেছি বাংলাদেশে মনে হয় করোনা ছড়াবে না।

কিন্তু তৃতীয় সপ্তাহ এটা দুই অঙ্কের কোটায় পৌছে গেছে। গত চার দিন ধরে (শুধুমাত্র একদিন ৫৮) তিন অঙ্কের কোটায় পৌছে গেছে করোনা রোগীর সংখ্যা।

যত দিন করোনা টেস্ট বাড়ছে ততই কোভিড ১৯ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আতঙ্কিত জনমনের প্রশ্ন উঠেছে, কত আক্রান্ত হতে পারে, কোথায় গিয়ে থামতে পারে বাংলাদেশের করোনা রোগীর সংখ্যা? বাংলাদেশ কি ইতালি, স্পেন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মতো ভাগ্য বরণ করবে? নাকি এটাকে আমরা ঠেকাতে পারবো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, ১৩ হাজার পরীক্ষা যথেষ্ট নয়। এই পরীক্ষা দিয়ে পুরো বাংলাদেশের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সঠিক নয়। বাংলাদেশের মতো দেশে অন্তত ১ লক্ষ পরীক্ষা হলে বোঝা যাবে অবস্থা কোন দিকে যাচ্ছে। কারণ ১৮ কোটি অধ্যুষিত মানুষের এই দেশে মাত্র ১৩ হাজার পরীক্ষা হলো টিপ অব দ্যা আইসবার্গ, এ থেকে প্রকৃত চিত্র বোঝা যায় না।

তবে বিশেষজ্ঞরা এটাও বলেন, প্রকৃত চিত্র বোঝা না গেলেও এটা অনস্বীকার্য যে বাংলাদেশ  ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। বাংলাদেশে যে সামাজিক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে, তা নিশ্চিত। কাজেই সামাজিক সংক্রমণ ঠেকানোটাই হলো এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এখন কত লোক আক্রান্ত হয়েছে সেটা বড় বিষয় না, বড় বিষয় হলো আক্রান্তদের চিকিৎসা। এই চিকিৎসা যদি নিশ্চিত করা না যায় তাহলে মৃত্যুর হার আরো বাড়বে। যা বাংলাদেশের জন্য ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেছেন, এখন আমাদের তিনটি ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রথমত, সামাজিক সংক্রমণ ঠেকাতে হবে। এজন্য আমাদের লক ডাউন আরো জোরদার করতে হবে। এখনো যে মানুষ ঘোরাফেরা করতে হবে। মেলামেশা করছে, এটা যে কোন উপায়ে বন্ধ করতে হবে। না হলে এটা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে।

দ্বিতীয়ত, তিনি বলেছেন, আমাদের যে স্বাস্থ্যবিধি তা কঠিনভাবে মেনে চলতে হবে। বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া। যেখানে সেখানে হাচি কাশি না দেওয়া। আমাদের যে স্বাস্থবিধিগুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলো প্রতিপালন করতে হবে।

তৃতীয়ত তিনি বলেছেন, আমাদের যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ সুচিকিৎসা যদি না দেওয়া হয় তাহলে মৃত্যুর হা্র আমাদের জন্য গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email