লক্ষ্মীপুরে প্রশাসনকে সহযোগীতা করায় যুবকের পরিবারের উপর হামলা : আহত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বড়খেরী এলাকায় মা, ছেলেসহ একই পরিবারের ৪ জনকে শুক্রবার রাতে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে । খবর পেয়ে রামগতি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার জন্য রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে । এ ঘটনায় আজ (১১ এপ্রিল) শনিবার দুপুরে রামগতি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে ।

থানায় দায়েরকৃত মামলা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের সূত্রে জানা যায়, বড়খেরী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার সামছুদ্দোহা মুন্নার উদ্যোগে বাড়ীর সামনের মাঠে শুক্রবার বিকেলে ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয় । এলাকার বিবাহিত বনাম অবিবাহিত যুবকদের পৃথক টীম গঠন করে এ খেলার আয়োজন করেন তিনি । খেলা উপভোগ করার জন্য মাঠে আরো ৫০/৬০ জন দর্শক জমায়েত হন । খেলার আয়োজক এবং আহতদের বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় এবং খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনকে এই ফুটবল খেলা সম্পর্কে অবহিত করান তারই প্রতিবেশী আরিফ । খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় চেয়ারম্যান হাছান মাকসুদ নিজামকে এ খেলা বন্ধ করার নির্দেশ প্রদান করে । উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মোমিন এর নির্দেশ প্রাপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান খেলা বন্ধ করে দেন । এতে ক্ষীপ্ত হয়ে মুন্না মেম্বার শুক্রবার সন্ধ্যায় আরিফের বড় ভাই জমির উদ্দিন ও আরিফের মা জান্নাত বেগমকে তার নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে । তাদের চিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে তাদেরকে উদ্ধার করার জন্য আরিফ ও তার ছোট ভাই রাহিম সেখানে গেলে তাদেরকেও সেখানে মারধর করে আহত করা হয় । আহত অবস্থায় তারা সবাই নিজ বাড়িতে ফিরে আসলে মুন্না পূনরায় তার দলবল নিয়ে আরিফদের বাড়িতে এসে আবারো তাদের উপর হামলা করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে । পরে খবর পেয়ে রামগতি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে ।

বড়খেরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাছান মাকসুদ নিজাম জানান, গতকাল শুক্রবার বিকেলে আমার পরিষদের মেম্বার মুন্নাসহ ফুটবল খেলারত ছিল । সরকারী নির্দেশনা মেনে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আমি সে খেলা বন্ধ করে দেই । পরে শুনেছি এ ঘটনায় মুন্না মেম্বার ক্ষীপ্ত হয়ে তার পাশের বাড়ির জান্নাত বেগমসহ তার পবিারের সদস্যদের হামলা করে আহত করেছে ।

রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ মো: সোলেমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিৎ করে জানান এ ঘটনায় আহত জান্নাত বেগম বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ১২ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন । আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে ।

Print Friendly, PDF & Email