লক্ষ্মীপুরে জনপ্রতিনিধিরা ঘরে : রাস্তায় প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সারাদেশে চলছে অঘোষিত লকডাউন। গণপরিবহন থেকে শুরু করে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। নিম্ন আয়ের থেকে মধ্যবিত্ত সবাইকে ঘরে থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছে সরকার। যদিও লক্ষ্মীপুরে এই মহামারিতে জনপ্রতিনিধিদের তুলনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও জেলা প্রশাসনকে তৎপর দেখা গেছে।

লক্ষীপুরের ৪ সংসদ সদস্যদের মধ্যে এ কে এম শাহজাহান কামাল, ডঃ আনোয়ার হোসেন খান, মেজর আবদুল মান্নান, কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুল এখন পর্যন্ত তাদের সংসদীয় আসনে আসেননি। তারা সংসদীয় এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করছে। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সহ লক্ষ্মীপুরে পাঁচটি উপজেলা চেয়ারম্যান, চারটি পৌরসভার মেয়র ৫৮ টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এর মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া অন্যদেরকে মাঠে দেখা যায়নি। এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যানদের মধ্যে সদর উপজেলার একেএম সালাউদ্দিন টিপু, কমলনগর উপজেলার মেজবাহউদ্দিন বাপ্পি, রায়পুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মারুফ বিন জাকারিয়া ছাড়া অন্য কাউকে এই মহামারী অবস্থায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি।

জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন প্রতিদিনই জনসচেতনতা থেকে শুরু করে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। পুলিশ প্রশাসন প্রতিদিনই জনসচেতনতা, খাদ্য সহায়তা সহ জনসমাগম যেন না ঘটে তা মনিটরিং করে যাচ্ছে।

পুলিশ সুপার ড. এ এইচ কামরুজ্জামান বলেন, গ্রাম-গঞ্জে মানুষের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ জন-সচেতনামূলক কাজ করছে পুলিশ। এ ছাড়া সড়কে পুলিশের মাধ্যমে যানবাহন চালকদের সচেতন করা হচ্ছে। একইসাথে সাধারণ মানুষের মাঝে মাস্ক, সাবান, হ্যান্ড গ্লাপ্স ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরন করা হয়।

লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সিভিল প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে। সরকারের নির্দেশ মোতাবেক জেলায় নিত্যপণ্য ও ঔষধের দোকান ব্যতিত সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। মানুষকে সচেতন করতে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটদের মাধ্যমে জেলা-উপজেলায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় এখনো কোন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নাই। বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারাইনন্টাইন নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোয়ারাইনন্টাইন অম্যানকারীদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমান করা হচ্ছে। হাট-বাজারে জন-সচেতনতায় মাইকিং, লিফলেট বিতরণসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সকল উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারী পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত করোনা প্রতিরোধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জিয়াউর রহমান বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জন-সচেতনতায় সেনাবাহিনী নিরলস ভাবে কাজ করছে। পরস্পর তিন ফুট সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নিত্যপণ্য ও ঔষধের দোকানের সামনে লাল বৃত্ত এঁকে দেয়া হচ্ছে, সংক্রমণ সুরক্ষায় হতদরিদ্র ও দিনমজুরদের মাস্ক, সাবানসহ বিভিন্ন উপকরণ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া হোম কোয়ারাইনন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের কোয়ারাইনন্টাইন মানা হচ্ছে কিনা তাও নিয়মিত তদারকি করছে সেনাবাহিনী টিম। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সবাইকে নিজ দায়িত্বে সচেতন হওয়ার আহবান জানান এ কর্মকর্তা।

Print Friendly, PDF & Email