গ্রামে গ্রামে চলছে স্থানীয়দের ‘লকডাউন’

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে চট্টগ্রামের গ্রামে গ্রামে চলছে ‘লকডাউন’। সচেতন গ্রামবাসীর উদ্যোগে গ্রামের প্রবেশ মুখে দেয়া হচ্ছে বাঁশ ও গাছ দিয়ে তৈরি প্রতিবন্ধকতা। এলাকাবাসীকে অতি প্রয়োজন ছাড়া গ্রামের বাইরে যেতে দেয়া হচ্ছে না। আরা প্রবেশ করতেও দেয়া হচ্ছে না।

আবার এর বিপরিত চিত্রও রয়েছে ভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা। কিছু কিছু এলাকায় এখনো গ্রাস করেনি করোনাভাইরাস আতঙ্ক। এ মহামারীতে তোড়ায় কেয়ার করে চলছে ঘুরাফেরা ও আড্ডা।

এ বিষয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াছ হোসেন বলেন, ‘নিজেদের নিরাপত্তার জন্য এটা করে থাকলেও এটা অবশ্যই ভালো দিক। তবে গ্রামবাসীর এ লকডাউন যেন কারোর ভোগান্তির কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। এ বিষয়ে কেউ যদি অভিযোগ করে তাহলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

জানা যায়, করোনাভাইরাস রোগী বাড়ার সাথে সাথে চট্টগ্রাম জেলার কিছু কিছু এলাকায় এলাকাবাসীর উদ্যোগ গ্রাম ও বাড়ি ‘লকডাউন’ করা হচ্ছে। বাঁশ ও গাছ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে নোটিশ। তাতে গ্রামে নতুন কাউকে প্রবেশ না করার অনুরোধ করা হয়। অনেক জায়গায় আবার এলাকাকে জীবানুমুক্ত করতে গ্রামবাসীর উদ্যোগে ছিটানো হয় জীবানুনাশক পানি।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, সীতাকুণ্ডু, বাঁশখালী, আনোয়ারাসহ বিভিন্ন জায়গার অর্ধশতাধিক এলাকা গ্রামবাসীর উদ্যোগে ‘লকডাউন’ করা হয়েছে। এর বিপরিত চিত্রও রয়েছে জেলার কিছু কিছু প্রত্যন্ত এলাকায়। এসব এলাকায় এখনো গ্রাস করেনি করোনা আতঙ্ক। ওই এসব এলাকার লোকজন ঘোরাফেরা ও চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছে সমান তালে। তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘সচেতন গ্রামবাসীর এ উদ্যোগ ভালো লক্ষ্যণ হলেও তা যেন অন্য কারোর ভোগান্তির কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। এ লকডাউন কারো ভোগান্তির কারণ হলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ফটিকছড়ির লেলাং ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৮ নং ইউপি সদস্য ইফতেহার উদ্দীন মুরাদ বলেন, দিন দিন রোগী ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ মহামারী থেকে বাঁচতে আমরা গোপালঘাটা এলাকায় বাইরে থেকে কোন লোক যাতে প্রবেশ করতে না পারে এ জন্য লকডাউন ঘোষণা করছি। আমাদের এলাকার লোক ছাড়া বাইরের কোনো লোক অতীব জরুরি কাজ ব্যতিত আসা যাওয়া নিষেধ করা করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email