লক্ষ্মীপুরে করোনা উপসর্গে দুই জনের মৃত্যু : ২১টি পরিবার লকডাউনে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুরে করোনা উপসর্গে দুই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে রামগঞ্জ উপজেলায় ৮০ বছর বয়সী একবৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনা ১টি বাড়ি ৫টি পরিবারকে লকডাউন করা হয়। অপরদিকে রামগতি উপজেলার ৫৫ বছর বয়সী এক জনের মৃত্যুর ঘটনায় ৩টি বাড়ির ১৬ পরিবারকে লকডাউন করে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

আজ (৭ এপ্রিল) মঙ্গলবার সকাল ও বিকেলে পৃথক ভাবে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় রামগঞ্জ উপজেলার আবাসিক মেডিকেল অফিসার রওশন জামিল ও রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কামনাশিস মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, করোনা উপসর্গ জ্বর ,শ্বাস কষ্ট, নিয়ে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ৮০ বছর বয়সী একবৃদ্বার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার বিকেলে তার নিজ বাড়িতে জ্বর স্বদি,শ্বাস কষ্ট,অসুস্থ হয়ে পড়ে পরিবারের লোকজন তাকে রামগঞ্জ উপজেলা স্ব্যাস্থ কমপ্লেক্্র নিয়ে আসেন। পরে তার নমুনা সংগ্রহ করে হাসপাতালে ভর্তিদেন এইসময় রুগির লোকজন গোপনে তাকে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় সে মারা যায়। এ ঘটনায় পরপরে রামগঞ্জ উপজেলার দরবেশপুর গ্রামে নিহতের বাড়ীরসহ ১টি বাড়ির ৫ পরিবারকে লকডাউনে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

রামগঞ্জ উপজেলার আবাসিক মেডিকেল অফিসার রওশন জামিল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত কয়েকদিন যাবতর্ জ্বর ,শ্বাস কষ্ট,নিয়ে সে অসুস্থ ছিলেন হঠাৎ করে আজ বিকেলে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে পরিবারের লোকজন তাকে রামগঞ্জ উপজেলা স্ব্যাস্থ কমপ্লেক্্র নিয়ে আসেন পরে তার নমুনা সংগ্রহ করে হাসপাতালে ভর্তিদেন এইসময় রুগির লোকজন গোপনে তাকে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে, বাড়ি নেওয়ার পথে সে মারা যায়। করোনা উপসর্গ জ্বর স্বদি,শ্বাস কষ্ট,সন্দেহে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য নিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় ১টি বাড়ির ৫ পরিবারকে লকডাউনে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অপরদিকে করোনা উপসর্গ নিয়ে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ৫৫ বছর বয়সী এক জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১১টার সময় তার নিজ বাড়িতে মারা যায়। এ ঘটনায় পরপরে উপজেলা প্রশাসন মৃত ব্যক্তির বাড়িসহ ৩টি বাড়ির ১৬ পরিবার লকডাউনে রাখে।

স্থানীয় চর বাদাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন জসিম জানান, দীর্ঘদিন ধরে মৃত ব্যক্তি ক্যান্সার ও কিডনী সমস্যায় ভুগছিলেন। করোনার উপসর্গ নিয়ে এ মৃত্যুর খবরে স্থানীয় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে কিনা তা নিশ্চিত হতে পরীক্ষার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ হতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির লাশটি দাফন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কামনাশিস মজুমদার জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে কিনা তা নিশ্চিত হতে মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দুই-তিন দিনের মধ্যে ফলাফল চলে আসবে। তখন বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল মোমিন জানান, এ ঘটনায় মৃত ব্যক্তির বাড়িসহ তিনটি বাড়ির ১৬ পরিবারকে লকডাউনে রাখা হয়েছে। ওই সব বাড়ির লোকজন অন্য কোথায় যেতে পারবেন না। আবার অন্য কোনো লোক ওই সব বাড়িতে প্রবেশ করতে পারবেন না।

Print Friendly, PDF & Email