করোনাভাইরাস : লক্ষ্মীপুরে প্রশাসনের যৌথ অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিশ্ব মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রামণ প্রতিরোধে লক্ষ্মীপুরে সিভিল প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পালের নের্তৃত্বে জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় জন-সচতেনতায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মাইকিং, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাবান, হ্যান্ড গ্লাভস ও মাস্ক বিতরণ করা হয়। একই সাথে বিভিন্ন স্থানে ছিটানো হয় জীবাণুনাশক স্প্রে।যৌথ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জিয়াউর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সফিউজ্জামান ভূঁইয়া, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাহীদুল ইসলাম, সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মুহতাসিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম আজিজুর রহমান মিয়া প্রমূখ।


জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সিভিল প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে। সরকারের নির্দেশ মোতাবেক জেলায় নিত্যপণ্য ও ঔষধের দোকান ব্যতিত সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। মানুষকে সচেতন করতে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটদের মাধ্যমে জেলা-উপজেলায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় এখনো কোন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নাই। বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারাইনন্টাইন নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোয়ারাইনন্টাইন অম্যানকারীদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমান করা হচ্ছে। হাট-বাজারে জন-সচেতনতায় মাইকিং, লিফলেট বিতরণসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সকল উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারী পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত করোনা প্রতিরোধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।


পুলিশ সুপার ড. এ এইচ কামরুজাজামান বলেন, গ্রাম-গঞ্জে মানুষের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ জন-সচেতনামূলক কাজ করছে পুলিশ। এ ছাড়া সড়কে পুলিশের মাধ্যমে যানবাহন চালকদের সচেতন করা হচ্ছে। একইসাথে সাধারণ মানুষের মাঝে মাস্ক, সাবান, হ্যান্ড গ্লাভস ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরন করা হয়। উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যক্তি এবং দৈনিক মজুরিকৃত মানুষদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে।
সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জিয়াউর রহমান বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জন-সচেতনতায় সেনাবাহিনী নিরলস ভাবে কাজ করছে। পরস্পর তিন ফুট সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নিত্যপণ্য ও ঔষধের দোকানের সামনে লাল বৃত্ত এঁকে দেয়া হচ্ছে, সংক্রমণ সুরক্ষায় হতদরিদ্র ও দিনমজুরদের মাস্ক, সাবানসহ বিভিন্ন উপকরণ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া হোম কোয়ারাইনন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের কোয়ারাইনন্টাইন মানা হচ্ছে কিনা তাও নিয়মিত তদারকি করছে সেনাবাহিনী টিম। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সবাইকে নিজ দায়িত্বে সচেতন হওয়ার আহবান জানান এ কর্মকর্তা।

Print Friendly, PDF & Email