লক্ষ্মীপুরে বন্ধ নেই ইটভাটা : ডিসির নির্দেশনা জানে না ইউএনও

নিজস্ব প্রতিবেদক :

করোনা ভাইরাস সংক্রামণ রোধে যখন সারাদেশে চলছে অঘোষিত লকডাউন। বন্ধ রাখা হয়েছে সকল ধরনের কার্যক্রম। একই সাথে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনাও রয়েছে। ঠিক তখনি প্রশাসনের এ নির্দেশনা মানছে না লক্ষ্মীপুরের ইটভাটাগুলো। স্বাভাবিক সময়ের মতই শ্রমিকদের সমাগম সৃষ্টি করে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব ভাটায় ইট পোড়ানোর কাজ চলছে। এতে করোনা সংক্রামনের ঝুঁকিতে রয়েছে শ্রমিকরা। এজন্য প্রশাসনের নজরদারির অভাব রয়েছে বলে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সারাদেশের ন্যায় লক্ষ্মীপুরেও গত (২৫মার্চ) বুধবার জেলা প্রশাাসনের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আগামী ৪ঠা এপ্রিল পর্যন্ত সকল ইটভাটা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়। একই সাথে সকল ভাটা শ্রমিকদের নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করার জন্য বলা হয়। অথচ প্রশাসনের এ নির্দেশনার কর্ণপাত করছেন না ইটভাটার মালিকরা। ঋণগ্রস্থ শ্রমিকদের চাপ সৃষ্টি করে চালাচ্ছেন ইটভাটার কার্যক্রম।

জেলার সদর উপজেলার কুশাখালি ইউনিয়নের এমজে ব্রিক্স, তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের সাগর ব্রিক্স, একতা ব্রিক্স, আরবিএম বিক্স, জেবিএম ব্রিক্স ও কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ফাতেমা ব্রিক্স ও ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকার দুটি বিক্সসহ জেলার রামগঞ্জ, রায়পুর, রামগতিসহ ৫টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ নির্দেশনা অমান্য করে শ্রমিকদের সমাগম করে চালানো হচ্ছে ইটভাটা।
সরেজমিনে কয়েকটি ইটভাটা ঘুরে দেখা যায়, ইটভাটার মালিকরা গেইট বন্ধ করে দিয়ে ভাটার ভেতর শ্রমিকদের দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শতাধিক শ্রমিকের সমাগম করে চালানো হয় ইট তৈরির কাজ। সেখানে শ্রমিকদের মাঝে শারীরিক দূরত্ব ও নিরাপত্তা মাক্স বা স্যানেটাইজার ব্যবস্থা নেই।

আরবিএস বিক্স ইটভাটায় সাংবাদিকের উপস্থিতি দেখে দৌড়ে পালাচ্ছিল সজিব নামে ১০ বছর বয়সী এক শিশু শ্রমিক। জানতে চাইলে সে বলে, অগ্রিম মজুরি বিক্রি করেছে সে। ভাটায় ইট উল্টোনোর কাজ করে মজুরি পরিষদ করছে সে। কাজ না করলে মালিক মারধর করবে।

স্থানীয়রা জানান, অধিক লাভের আশায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা মানছেন না ইটভাটার মালিকরা। ইট তৈরির কাজে আগেই ৬ মাসের অগ্রিম শ্রম কিনে নেন ভাটা মালিকরা। এজন্য মালিকদের কাছে জিম্মি শ্রমিকরাও। শ্রমিকদের টাকা ফেরত দেয়ার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক কাজ আদায় করে নেন তারা। এদের মধ্যে শিশুশ্রমিকও লক্ষণীয়। ইট তৈরির কাজে তাদের নিরাপত্তা মাস্ক কিংবা স্যানেটাইজার কোন সচেতনাতামূলক সামগ্রী দেয়া হয় না। এতে সংক্রামক তাদের পরিবারের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রশাাসন উদাসিন বলে জানান স্থানীয়রা।

ইটভাটা শ্রমিক সফিক মাঝি, রহমান গাজী জানান, ৬ মাসের জন্য ভাটা মালিকের কাছে বিক্রি হয়েছেন তারা। কাজ না করলে অগ্রিম টাকা ফেরত দিতে হবে। এতে মারধরসহ নির্যাতিত হতে হয় তাদের। এতেগুলো টাকা ফেরত দেয়ার সামর্থ নেই। তাছাড়া করোনা সম্পর্কে তাদের মালিক পক্ষ থেকেও কোন কিছু বলা হয়নি। তাই পেটের দায়ে কাজ করেন তারা।

আরবিএম বিক্স ইটভাটা মালিক আবদুর রহমানসহ তিনজন মালিক জানান, সরকারের নির্দেশনা থাকলেও বন্ধ করা সম্ভব নয়। এতে অনেক টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এখন কাজ বন্ধ রাখলে ক্ষতির সম্মখিন হতে হবে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা সামগ্রী বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনা ইটভাটায় ছড়াবে না।

এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইটভাটা বন্ধ রাখার নির্দেশনার বিষয়ে জানেন না খোদ কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, করোনা প্রভাবে ইটভাটা বন্ধ রাখার বিষয়ে সঠিক ভাবে বলা নেই। শুধু সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠগুলো বন্ধের নির্দেশনা রয়েছে। এসময় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে উপজেলা পরিষদে নোটিশ পাঠানোর বিষয় জানানোর পর তিনি ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকে ইটভাটা বন্ধ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা হোম কোয়ারেন্টাইনের নিতিমালা মেনে চলবে না তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email