করোনাভাইরাসে ২.৭৯ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পোশাক খাত

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভয়াবহ থাবা বসেছে দেশের অর্থনীতির মেরুদ্বন্ড তৈরি পোশাক শিল্পে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের কারণে একের পর এক বাতিল হচ্ছে ক্রেতাদের দেওয়া পোশাকের অর্ডার। নতুন অর্ডার তো আসছেই না। এরই মধ্যে ৮৫৭ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন পিস অর্ডার বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। যার বাজারমূল্য ২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। শনিবার (২৮ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিএমইএ’র পরিচালক আসিফ ইব্রাহিম।

বিজিএমইএ’র পরিচালক আসিফ ইব্রাহিম বলেন, শনিবার সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইতালিসহ অধিকাংশ দেশে ১০০৮টি কারখানার ৮৫৭ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন পিস অর্ডার বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ ২ দশমিক ৭৯বিলিয়ন ইউএস ডলার। এসব কারখানাগুলোতে ২ লাখ ২ হাজার শ্রমিক রয়েছেন। এ ছাড়া আর্থিক সংকটের কারণে গত ১৪ মাসে (২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত ১০৬টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

গত বছরের তুলনায় এ বছরের ১৮ মার্চ তৈরি পোশাক রফতানি কমেছে ৪১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় এ বছরের ১৯ মার্চ কমেছে ১২ দশমিক ২ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় এ বছরের ২০ মার্চ রফতানি কমেছে ৪৪ দশমিক ১৫ শতাংশ।

বিজিএমইএ নেতারা বলছেন, আর্থিক সংকটের কারণে কিছু দিনের মধ্যে অন্তত এক হাজার পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগে শ্রমিক মজুরি পরিশোধ নিয়ে গার্মেন্টস মালিকরা কিছুটা ভারমুক্ত হলেন বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক।

Print Friendly, PDF & Email