স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা ও বঙ্গভবনে সংবর্ধনা বাতিল

করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ২৬ মার্চ সাভার জাতীয় স্মৃতি সৌধ ও বঙ্গভবনে স্বাধীনতা দিবসের সব অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।  এছাড়া স্বাধীনতা পদক প্রদান অনুষ্ঠানও স্থগিত করা হয়েছে।

শনিবার (২১ মার্চ) রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এর সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সাক্ষাতে এ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয় বলে বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে। বঙ্গভবন সূত্র জানায়, শনিবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এর সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎকালে তারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণকে করোনায় আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আলোচনাকালে এ বছর ২৬ মার্চ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠান এবং বঙ্গভবনে অনুষ্ঠেয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া স্বাধীনতা পদক বিতরণ অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।

এর আগে আগামী ২২-২৩ মার্চ মুজিববর্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠিতব্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন স্থগিত করা হয় বলে জানিয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। শনিবার (২১ মার্চ) রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বিষয়টি অনুমোদন দেন। এর আগে জাতীয় সংসদের সিনিয়র সচিব জাফর আহমেদ খান জানিয়েছিলেন, অধিবেশনের দিন সকালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের যে কর্মসূচি ছিল তা ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে।

সবার আগে দেশে এবং দেশের মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। সেই বিবেচনায় অধিবেশন স্থগিত হতে পারে। এবং আজই শনিবার বিষয়টি জানতে পারবেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতীয় সংসদের ২২ ও ২৪ মার্চ দুই বিশেষ অধিবেশন ডাকেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

২২ মার্চ বেলা ১১টায় অধিবেশন বসার কথা ছিল। অধিবেশনের আগে সকাল সাড়ে নয়টায় সংসদ সদস্যদের ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করার কথা ছিল। এরপর অধিবেশনের শুরুতে বঙ্গবন্ধুর ওপর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ভাষণ দেবেন। এছাড়া কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭-এর আওতায় বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের ওপর সংসদ সদস্যরা সাধারণ আলোচনায় অংশ নেয়ার কথা ছিল।মুজিববর্ষের বিশেষ অধিবেশনে বিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে তারা আসবেন না।

তবে ২২ ও ২৩ মার্চ দুই দিনের এ বিশেষ অধিবেশন বসবে বলে জাতীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে আপাতত সংসদের বিশেষ অধিবেশন স্থগিত করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email