লক্ষ্মীপুরে ‘অর্ধ বেলা দোকান বন্ধের পর খোলার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ প্রতিরোধে দোকানপাট বন্ধের বিষয় নিয়ে লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতি ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্বিমুখী সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। এতে বাজরের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার সকাল থেকে অর্ধবেলা লক্ষ্মীপুর বাজারে কোন ব্যবসায়ী তাদের দোকানপাট খোলেনি। পরে বেলা সাড়ে ১২টার পর কিছু দোকান পাট খুলতে দেখা যায়। এতে বাজারে দ্রব্যমূল্যের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিসহ সাধারণ মানুষের মাঝে করোনা ভাইরাস আঙ্কক আরো বাড়বে বলে মনে করেন সচেতনরা।

এর আগে গতকাল শুক্রবার বিকেলে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১১ দিন শহরের জামা-কাপড়, জুতা ও কসমেটিকস’র দোকানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতির সভাপতি একেএম সালাহ উদ্দিন টিপু। বণিক সমিতির এমন সিদ্ধান্তে বিমুখ লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল। এখনো পর্যন্ত এ জেলায় করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দোকানপাট বন্ধ রাখার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলেন জানান তিনি। একই একই সিদ্ধান্ত জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

এদিকে শনিবার সকালে লক্ষ্মীপুর শহরে ব্যবসায়ীরা দোকানের সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকলেও বণিক সমিতির নির্দেশনার কারণে দোকান খুলছেন না। দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত বাজারের মার্কেটসহ সব দোকান পাট বন্ধ রাখা হয়। এসময় ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই হতাশায় পড়েন। পরে দুপুরে বণিক সমিতির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ এহতেসান হায়দার বাপ্পি ব্যবসায়ীদের দোকান খোলার নির্দেশ দিলে দোকান খোলা শুরু করেন ব্যবসায়রা। এনিয়ে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মাঝে ক্ষোবের সৃষ্টি হয়েছে।
জানতে চাইলে বণিক সমিতির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ এহতেসান হায়দার বাপ্পি বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য দোকানপাট বন্ধ-খোলার বিষয় নিয়ে একটু ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। তবে বণিক সমিতির কার্যকরি পরিষদের এক সিদ্ধান্তের আলোকে দুপুরে ব্যবসায়ীদের দোকানপাট পুনরায় খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে কাউকে বিভ্রত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে ফিরোজ, আজাদ ও সেলিম নামের সাধারণ ব্যবসায়ীরা জানান, এমনিতেই করোনার প্রভাবে চারদিকে পরিস্থিতি খারাপ। আতঙ্কে বাজারেও মানুষের চলাফেরা কমে গেছে। বণিক সমিতির হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে বাজার নিস্তব্ধ হয়ে যায়। প্রশাসনের সাথে সমন্বয় না করে বণিক সমিতির এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক হয়নি। এতে তারা ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন বলে জানান তারা।

কয়েকজন ক্রেতা জানান, করোনার প্রভাবে বাজারে দ্রব্যমূল্যের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। নিত্য ভোগ্যপনের দাম হুর হুর করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি করে দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। তার উপরে বণিক সমিতির হঠাৎ বাজার বন্ধ- খোলা সিদ্ধান্ত নিলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে পড়বে।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, লক্ষ্মীপুরে এখনো করোনা ভাইরাসের প্রভাব তেমন ভাবে পড়েনি। এজন্য বাজারে দোকান পাট বন্ধ রাখার কোন সিদ্ধান্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। তবে বণিক সমিতি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলে সেটা তাদের একক সিদ্ধান্ত। তবে বাজারে দ্রব্যমূল নিয়ন্ত্রণে রাখতে মনিটরিং করা হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email