বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১০

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আরো দুই ব্যক্তির আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন প্রবাসী ও অপর একজন তার নিকট আত্মীয়ের সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানিয়েছেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

এরআগে সোমবার (১৬ মার্চ)  তিনি জানান, এর আগে জার্মানি ও ইতালি থেকে আসা যে দুই ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, নতুন করে আক্রান্তরা তাদের একজনের আত্মীয়।

ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন,  নতুন করে আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে দুজন শিশু, একজন নারী। এই তিনজের উপসর্গ খুবই কম। তাদের বাড়িতে রেখেও চিকিৎসা দেওয়া যেতো। কিন্তু তাদের মাধ্যমে অন্যরা যাতে আক্রান্ত না হন, তাই তাদের হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এর আগে, গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এদের মধ্যে দুইজন ইতালি ফেরত প্রবাসী ছিলেন। বাকি একজন ছিলেন ওই আক্রান্তদের একজনের স্ত্রী। পরে গত শুক্রবার আইইডিসিআর জানায়, আক্রান্ত তিন ব্যক্তির মধ্যে তিনজনই সুস্থ হয়েছেন।

এরপর শনিবার (১৪ মার্চ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আরো দুজনের আক্রান্ত হওয়ার কথা জানান।

এদিকে অনেক জল্পনা-কল্পনা শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করছে সরকার। আপাতত ৩১ মার্চ পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হবে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, চীনের উহান থেকে বিস্তার শুরু করে গত আড়াই মাসে বিশ্বের ১৪৫টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। চীনে করোনার প্রভাব কিছুটা কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে এর প্রকোপ দেখা দিয়েছে

রোববার পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় নিহত হয়েছেন ৬ হাজার ৫১৫ জন। অপরদিকে ৭৭ হাজার ৭৫৩ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বিশ্বে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৬৯ হাজার ৫৩৩ জন।

এই ভাইরাসে শুধুমাত্র চীনের মূল ভূখণ্ডেই আক্রান্ত হয়েছেন ৮০ হাজার ৮৬০ জন। আর মারা গেছেন ৩ হাজার ২১৩ জন। তবে এখন চীনে এই হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনাভাইরাসে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ জন এবং নিহত হয়েছেন ১৪ জন।

Print Friendly, PDF & Email